আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহু প্রত্যাশিত বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজ ধীরগতিতে এগুচ্ছে। বিশেষ করে বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত জমি প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। একইভাবে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) গত কয়েক মাস ধরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকলেও তা আলোর মুখ দেখছে না। প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার ডিপিপি কোন পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব না হওয়ায় সময় লাগছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া মাটি ভরাট, দেয়াল নির্মাণ, কিছু অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত টেন্ডার (ওটিএম) কিংবা সরাসরি কোনো সংস্থাকে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে কি না, সে ব্যাপারেও প্রকল্পটি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে মূল প্রকল্পটি বিদেশি কোনো সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হবে তা-ও এখনো ঠিক করা হয়নি। জানা গেছে, ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ বে-টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকি ভারত তাদের আর্থিক সহায়তায় একটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বে-টার্মিনালের প্রস্তাবিত প্রায় ৯০০ একর জমির মধ্যে ৬৮ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করে দখলে নিয়েছে। বাকি জায়গার মধ্যে ৮০৩ একর জমি চিহ্নিত করে অধিগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে ৮০২ একর সরকারি খাস জমি। এ জমির জন্য বর্তমান সরকারি তিন গুণ মূল্য হিসেবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা প্রদান করতে হবে। বিশাল অঙ্কের এই অর্থ প্রদানে অক্ষমতা জানিয়ে বন্দর কর্তৃক এ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পত্র দিচ্ছে বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমিতে ভূমি উন্নয়নের কিছু কাজ শুরু করেছে। বাকি জমিসমূহ অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হলে এবং ডিপিপি অনুমোদিত হলে পুরোদমে কাজ শুরু করা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান।চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন হালিশহর সমুদ্র উপকূল বে-টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাবিত এলাকা। উপকূল থেকে সমুদ্রের ভেতর ব্রেক ওয়াটারের মাধ্যমে জেটি নির্মাণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সমুদ্র থেকে মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে আরো নতুন জায়গা সৃষ্টি করা হবে। ফলে বে-টার্মিনাল এক হাজার একরেরও বেশি জমি নিয়ে নির্মিত হবে। বে-টার্মিনালের মধ্যে বর্তমানের চেয়ে বেশি গভীরতার বড়ো আকৃতির তথা বেশি কন্টেইনার ও পণ্য নিয়ে জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। তাছাড়া বে-টার্মিনালে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
