সাপাহারে নিজের বাল্যবিয়ে নিজেই বন্ধ করলো স্কুলছাত্রী মোর্শেদা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪২

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা প্রত্যন্ত অঞ্চল পাতাড়ী ইউনিয়নের পাতাড়ী ড্রেনপাড়া গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী ১০৯ নম্বরে কল দিয়ে নিজের বিয়ে নিজেই বন্ধ করে দিয়েছে।

পাতাড়ী ড্রেনপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমান ও মা ফেরদৌসী বেগমের মেয়ে সৎসাহস নাম মোর্শেদা খাতুন (১৩)। সে পাতাড়ী ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, মাদ্রাসা পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা পাশের গ্রামের এক ছেলে সাথে তার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দিন তারিখ ধার্য করেছিলেন। বাড়িতে বিয়ের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে দেখে শিক্ষার্থী মোর্শেদা গ্রামে অবস্থিত বেসরকারি সংগঠন বিএসডিও এবং বিডিও এর শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও লোক কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রের ম্যানেজারকে কোন কথা না বলে ঘরের দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। পরে দেয়ালের চার্টে টাঙ্গানো জরুরি ভিত্তিতে কল করার জন্য সরকারি ফোন নম্বরগুলো তার নিজ খাতায় লিখে নিয়ে বাসায় ফিরে যায়। এরপর সে নিজ ঘরে ঢুকে তার বিয়ে বন্ধের জন্য ১০৯ নম্বরে কল দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। ঠিক সেই সময়ে তার মা ফেরদৌসি বেগম মেয়ের কল করে বিয়ে বন্ধ করার কৌশল বুঝতে পেরে মেয়ের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সে এই নম্বর কোথায় পেল জানার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে শিক্ষার্থী মোর্শেদা নম্বরটি তার গ্রামের লোক কেন্দ্রের ম্যানেজার শারমীন আক্তারের নাম বলে দেয়। এরপর ওই তার বাবা-মা কেন্দ্রের ম্যানেজারের প্রতি চড়াও হয়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদর্শন করেন। তখন লোক কেন্দ্রের ম্যানেজার শারমীন আক্তার প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ভয় দেখালে মেয়ের বিয়ে বন্ধ করে দেন মোর্শদের বাবা-মা।

আরো পড়ুন: শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারে সফরসঙ্গী রিয়াজ-ফেরদৌস

মোর্শেদার বুদ্ধিমত্তার জোরে নিজের বিয়ে নিজে বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী ওই শিক্ষার্থী মোর্শেদা খাতুনকে ধন্যবাদ জানান।

সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কল্যাণ চৌধুরী জানান, এ ধরনের সংবাদ তিনি পাননি। পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতেন। তবে বিষয়টি ক্ষতি দেখবেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/বিএএফ