মুক্তিপণ না পেয়ে বন্ধুকে হত্যা, লাশ ফেলল নদীতে

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৮

অপহরণের পর মুক্তিপণের ১৫ লাখ টাকা না পেয়ে অপহরণকারী কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা মো. সজিব হোসেন (১৭) নামে তাদের এক বন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাং গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে চলছে মাতম। চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫ নম্বর বানাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে। গতকাল শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, পাইকপাড়া গ্রামের জীবন মিয়ার ছেলে সজিব। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ও অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা তাকে অপহরণ করে। সজিবের বাবা জীবন মিয়া ও চাচা শহিদ মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, সজিবকে যারা অপহরণ করে তারা সবাই সজিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বাড়ি একই এলাকায়। অপহরণের পর থেকেই     মোবাইল ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। মুক্তিপণের টাকা না দিলে সজিবকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় টাকা জোগারে ব্যস্ত হয়ে পরে সজিবের পরিবার। কিন্তু অসহায় পরিবারের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাদের কাছে অনুরোধ করে টাকা কমানোর জন্য। কিন্তু অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা টাকা কম নিবে না বলে তাদের জানায়। নিরুপায় হয়ে সজিবের বাবা অসহায় জীবন মিয়া মির্জাপুর থানায় অভিযোগ করেন ছেলেকে ফিরে পাবার আশায়।

অভিযোগ পাওয়ার পর মির্জাপুর থানা পুলিশ সজিবকে উদ্ধারে নামে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য এবং অপহরণের মূলহোতাসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে—আলামিন (২৬), শামীম (২২), সাজ্জাত (২১), জুয়েল (২০) এবং মনতাজ (২৮)। তাদের বাড়ি একই এলাকার পানিশাইল, দেওড়া, ভুষুন্ডী এবং পাইকপাড়া গ্রামে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আলামিন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সজিবকে হত্যার পর লাউহাটি এলাকায় নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি নিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধারের জন্য অভিযানে যায়। তবে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে আনজুমান মফিদুলের সহযোগিতায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোরাদুজ্জামান বলেন, যারা অপহরণ করেছিল তারা সজিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে গ্রেফতারকৃত আসামিরা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। আটকদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ছেলেকে হারিয়ে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। সজিবের ছবি বুকে নিয়ে অসহায় মা-বাবা বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন আর বলছেন, ‘তোমরা আমার কলিজার টুকরা বুকের মানিক সজিবকে এনে দাও।’ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।