যশোরে ‘উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা’ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উচ্চ গতিতে ছুটন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছোঁ মেরে কোনো পথচারী কিংবা রিকশাযাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ছিনিয়ে নিয়ে চোখের পলকে চম্পট দেওয়া দুর্বৃত্তরা শহরে এই নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত যশোরের বিভিন্ন সড়কে ঘটছে এ জাতীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার দুপুরে শহরের জেলা ও দায়রা আদালত মোড়ে ছিনতাইকারীর ছোবল সামলাতে না পেরে রিকশা থেকে কোলের শিশু সন্তানসহ রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে আহত হয়েছেন মাগুরার শালিখা উপজেলার আঠারখাদা গ্রামের উত্তম বিশ্বাসের স্ত্রী দিপালী বিশ্বাস (৩০)। তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শহরের ‘উড়ন্ত’ ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ তত্পর রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আহত দিপালীর ভাই মিঠুন বিশ্বাস জানান, দিপালী শহরের চাঁচড়া মোড় থেকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় উপশহরের বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। জজ আদালত মোড়ে পৌঁছলে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। এ সময় তারা চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাদের চিত্কারে পথচারীরা এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। মিঠুন বিশ্বাস বলেন, তার ভাগনের মাথায় আঘাত লেগেছে। তার বোনের হাত ও পায়ের হাঁটুতে মারাত্মক জখম হয়েছে।
জানা গেছে, শুধু দিপালী নয়, তার মতো অনেকেই প্রায়শই নতুন আপদ হিসেবে হাজির হওয়া এই ‘উড়ন্ত’ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন। বেশিরভাগ সময় ছিনতাইয়ের শিকার লোকেরা হেঁচকা টানের ফলে ছিটকে পড়ে আহত হচ্ছেন। গত ৮ আগস্ট বিকালে তালবাড়িয়ায় এনজিওকর্মী অনুপমা বিশ্বাসের টাকা ভর্তি ব্যাগ এভাবে ছিনতাই হয়। তিনি এনজিওর ক্ষুদ্র ঋণের টাকা সংগ্রহ করে ফিরছিলেন। ১৯ আগস্ট রাতে শহরের ঈদগার সামনে সাহাবুদ্দিন খান নাসিম নামে একব্যক্তির ব্যাগ এই ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়।
