শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরও দৌলতপুর উপজেলার মতিলাল ডিগ্রী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হচ্ছে না। কলেজের অধ্যক্ষ এবং কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকের বিরোধিতার কারণেই অনার্স কোর্স চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। অনার্স কোর্স চালু করার দাবিতে বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে তারা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ পেলেও অনার্স কোর্স চালু করার ক্ষেত্রে স্থবিরতার কারণে তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন। বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের ভবিষ্যত্ ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দৌলতপুর উপজেলায় বর্তমানে কোনো অনার্স কলেজ নেই। এই উপজেলার শিক্ষার্থীদের অনার্স নিয়ে লেখাপড়া করতে হলে জেলা শহরে যেতে হয়। লেখাপড়ার খরচ বেড়ে যায়। তারা জানান, এরই মধ্যে এই কলেজটি সরকারিকরণের সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেছে। কিন্তু তারপরও অনার্স কোর্স খোলার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে তারা অধ্যক্ষকে অভিযুক্ত করেন।
ঐ কলেজের অনার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, কলেজের পরিচালনা পরিষদের ২০১৪ সালের ২৯ মের সভায় হিসাববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ঐ দুই বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও পরিচালনা পরিষদের অনুমোদনক্রমে ২০১৬ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর ১৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনার্স কোর্স অধিভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি পরিদর্শক দল গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। গত ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও অদ্যাবধি পরিদর্শন দলকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আহ্বান করেনি। তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন দলকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শনের জন্য আহ্বান করবেন। কিন্তু কলেজের অধ্যক্ষ এবং কয়েকজন শিক্ষক অনার্স কোর্স চালুর বিপক্ষে থাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুহল আমিন অনার্স কোর্সে শিক্ষক নিয়োগের কথা স্বীকার করে বলেন, এরই মধ্যে কলেজটি সরকারিকরণের তালিকাভুক্ত হয়েছে। ফলে অনার্স কোর্স চালু করা যাবে কি না সেটা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
