সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৫০

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঐ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আয়নাল হক এ ব্যাপারে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০৫০ জন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। একদিন অনুপস্থিত থাকলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তাতে প্রতিমাসে জরিমানা আদায় করা হয় অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ টাকা ক্লাস টিচারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হলেও তার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। তাহলে এ টাকা যায় কোথায়?

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেওয়ার নামে কোনো শ্রেণি থেকে ৬০ টাকা,  কোনো শ্রেণি থেকে ৭০ টাকা, আবার কোনো শ্রেণি থেকে ৮০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু এ টাকারও কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, কোনো কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে বন্ধের শেষের দিন ও বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিন অনুপস্থিত না থাকলে পুরো বন্ধের জরিমানা দিতে হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের টিফিনের টাকা শিক্ষকদের দিয়ে দেয়। ফলে না খেয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। দুর্বলতায় অনেক শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে পড়ে যায় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া বেতন, বিদ্যুত্ বিল, উন্নয়ন ফির সঙ্গে আবারও পরীক্ষার সময় জরিমানা নেওয়া হয় এবং পরীক্ষা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অগ্রিম মাসের বেতন নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো রসিদে মাসের নাম উল্লেখ করা হয় না। অভিযোগকারী আরো জানান, এ ব্যাপারে  ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এসব ব্যাপারে জানার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আতাউর রহমানের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্কুলের করণিক খান শাহিন বলেন, এত টাকা জরিমানা আদায় হয় না। তবে রসিদ দেওয়া না হলেও শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে জরিমানার টাকা খাতায় এন্ট্রি করা হয়।