আশিক মাহমুদ রিয়াদ
বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, ঘটে যাচ্ছে পেঁয়াজ নিয়ে কত ঘটনা
প্রতিবাদ
সেদিন বাজারে গিয়ে মঈন আবিষ্কার করে পেঁয়াজের দাম অনেক চড়া? এদিকে মঈনের স্ত্রী শবনম তাকে মাত্র একশ টাকার দুটো নোট ধরিয়ে দিয়েছে। সব বাজার-সদাই করার পরে দেখল তার হাতে মাত্র বিশ টাকা আছে? পেঁয়াজ নেবে কি নেবে না, সেই সিদ্ধান্তে যখন সে পৌঁছাতে পারছে না, ঠিক তখনই পিছন থেকে এক লোক এসে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালায়। পেছন থেকে আমজনতা ছুটে আসছে আসছে ক্ষিপ্র হয়ে। মঈন কী যেন! ভাবতে না ভাবতেই দৌড়াল। তার সামনে দৌড়াচ্ছে একজন। মঈন কিছুক্ষণ বাদে দৌড় থামিয়ে ভাবল, কেন সে দৌড়াচ্ছে। এদিকে আমজনতাও ছুটে আসছে তার দিকে। সে আবার দৌড় শুরু করল। আমজনতা পিছন থেকে বলছে, ‘পেঁয়াজ চোর! পেঁয়াজ চোর!’
কে একজন ঠ্যাঙা পেতে দিল, হুড়মুড়িয়ে আছাড় খেল মঈন। আমজনতার ঠ্যাঙানি খেয়ে গলায় পেঁয়াজের মালা নিয়ে বাসায় ফিরে এলো। মঈনের স্ত্রী অবাক হয়ে বলল, ‘তোমাকে পেঁয়াজ আনতে বলেছি বলে তুমি পেঁয়াজের মালা নিয়ে ঘরে এসেছ?’ মঈন বলল, ‘পেঁয়াজের আজকাল খুব দাম।’ এক কথায় দু কথা মঈনের স্ত্রী ঝাটা হাতে মঈনকে তাড়া করে বাসার বাইরে বের করে দিল? বেচারা মঈন পেঁয়াজের মালা নিয়ে মোড়ের চায়ের দোকানে বসে রইলেন? কোত্থেকে এক ফটো সাংবাদিক এসে তার ছবি তুলে নিয়ে গেল? কিছু দিন পরে খবরের পাতায় শিরোনাম হলো, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় অভিনব প্রতিবাদ।
দামি ফল পেঁয়াজ
ঈশতিয়াক সাহেবের বস আনোয়ার সাহেব আজ দুদিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। সেদিন কথার তালে তালে এক কলিগের চেয়ারে বসতে গিয়ে চেয়ার সরে যাওয়ায় তিনি ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে কোমরে খুব ব্যথা পেয়েছেন। ঈশতিয়াক সাহেব হাসপাতালে যাওয়ার আগে ভাবলেন বসের জন্য দামি কোনো কিছু নেওয়া যায় কি না। তিনি দামি জিনিস নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হলেন? তিনি বসের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পরে হাসপাতাল থেকে চলে এলেন? আনোয়ার সাহেব তার স্ত্রীকে বললেন, ‘ঈশতিয়াক সাহেব কি এনেছে দেখো তো!’
আনোয়ার সাহেবের স্ত্রী, ‘প্যাকেট খুলে হতভম্ভ হলেন একি! এ তো পেঁয়াজ!’ আনোয়ার সাহেব রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘আমার সাথে মশকরা? সুস্থ হয়ে বেটাকে চাকরি থেকে তাড়িয়ে দেব। প্যাঁচ্চোড় কোথাকার!’
মিষ্টির বদলে পেঁয়াজ
আজ খুশিকে দেখতে এসেছে পাত্রপক্ষ। পাত্রপক্ষ আসার আগেই তাদের পাঠানো মিষ্টির প্যাকেট চলে এসেছে? কিছুক্ষণ বাদেই পাত্রপক্ষ চলে এলো। খুশির মা রাবেয়া বেগম, মিষ্টির প্যাকেট খুলতেই হতভম্ব হলেন! তিনি চিত্কার দিয়ে বললে, ‘এ মা! এ কি! এ তো পেঁয়াজ!’
ছেলের বাবা বললেন, ‘আজকাল পেঁয়াজের দাম মিষ্টির থেকে বেশি তো। আমরা আবার দামি জিনিস ছাড়া কোথাও যাই না। তাই আমরা পেঁয়াজ নিয়ে এসেছি।’
খুশির বাবা রহমত সাহেব অখুশি হয়ে তাদেরকে বিদেয় করে দিলেন।
পেঁয়াজের ব্যবসা
অনিক এবার বিসিএস দেওয়ার জন্য দিনরাত পড়াশোনা করছে। অনিকের বন্ধু ইকবাল মাঝেমধ্যে অনিকের কাছে আসে। এতে অনিকের দারুণ মেজাজ খারাপ হয়। তবে ইদানীং ইকবালকে দেখা যাচ্ছে না। অনিক তার বন্ধুর খোঁজ নিতে গিয়ে শোনে সে নাকি পেঁয়াজের ব্যবসা শুরু করেছে।
অনিক চলে আসে। কিছুদিন পরের ঘটনা, অনিক চা খেতে বেরিয়েছে। হঠাত্ করে একটি কালো গাড়ি এসে তার সামনে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে সিনেমাটিক স্টাইলে নেমে আসে তার বন্ধু ইকবাল।
চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় অনিক ইকবালের হঠাত্ ধনী হয়ে যাওয়ার রহস্য জিজ্ঞেস করতেই অনিক ফিসফিস করে বলে, ‘আজকাল পেঁয়াজের দাম অনেক ভালো যাচ্ছে। তুই এক কাজ কর, পেঁয়াজের ব্যবসায় নেমে পড়।’ অনিক মাথা চুলকাতে থাকে। সে ভাবছে পেঁয়াজের ব্যবসা শুরু করবে কি না?
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী যখন আদর্শ জামাই
সোহানা প্রেম করছে রাসেলের সঙ্গে। বেকার বলে রাসেলের কথা সোহানা তার বাবাকে বলতে পারছে না। রাসেল চিন্তিত হয়ে পেঁয়াজের ব্যবসা শুরু করে। সোহানা তার বাবাকে রাসেল এবং তার পেশা সম্পর্কে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কিন্তু আজকাল তিনি নিজেই রাসেলের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সোহানাকে বলেছেন আগামী পৌষ মাসেই ওদের বিয়ে দেবেন।
বাংলাবাজার, সদর, বরিশাল
