তানভীর আহাম্মেদ
রাতে ভালো ঘুম হয়নি টিকলু ভাইয়ের। নতুন বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে তুমুলভাবে। প্রসঙ্গ অনলাইন ড্রেস অর্ডার। দাম ছিল ৫৬০০ টাকা। কিন্তু এত টাকা টিকলু ভাই তখন দিতে পারেননি। তাই বউয়ের নিরব অভিমান। বউয়ের এই ছেলেমানুষি অভিমান দেখে টিকলু ভাইয়ের রাগ হয় প্রচুর। কথা শোনাতে শোনাতে এক পর্যায়ে বাজারের ছোট ব্যাগটা ফেলে দেন ময়লার ঝুড়িতে। বউও রাগ করে তা আর তুলে রাখেনি। সকালে তা ময়লাওয়ালার ভ্যানে দিয়ে দেবেন বলে ঘোষণা দেন।
রাতে এইসব নিয়ে ঝামেলা করতে করতে প্রায় ৪:৩০-এ ঘুম আসে তার। তাই উঠতে উঠতে এখন সকাল ৯:৩০। রাতে কিছু না খাওয়ায় এখন প্রচুর ক্ষুধা। ফ্রেস হয়ে দেখেন বউ নেই। কিন্তু তিনি বউকে খুঁজেননি। এই মুহূর্তে তার নাস্তা লাগবে। ফ্রিজে তাই খাবারের কিছু খুঁজলেন। রান্না ঘরেও খুঁজলেন। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। শেষে হঠাত্ মনে পড়ল কাল রাতে বাজারের ব্যাগে তিনি কিছু ফল এনেছেন। তাই ঝুড়িতে ব্যাগ খুঁজতে যান। কিন্তু হায়, সেই ব্যাগেও কিছু নেই। তবে কি বউ আসলেই সব ফেলে দিল!
ভাবতে ভাবতেই তার অভিমানী বউ বাসায় ফিরে। ক্ষুধার জ্বালায় অনেকটা রেগে আছেন টিকলু ভাই।
—কোথায় গিয়েছিলে?
—অনলাইনের অর্ডারটা কুরিয়ার থেকে আনতে গো।
—টাকা দিল কে তোমাকে? কার থেকে ধার করেছ?
—আরে কাল রাতে টিভি দেখছিলাম। হঠাত্ পেঁয়াজের অবস্থা দেখে মাথায় বুদ্ধি এলো ঝুড়ি থেকে ব্যাগের পেঁয়াজগুলো নিয়ে বাজারে বেচে দিই। তুমি তো এইগুলো ফেলেই দিয়েছিলে, তাই না! দেখছ ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে কী করলাম!
—এত বুদ্ধি তোমার!
—তুমি তো পাত্তাই দাওনা আমাকে। দেখলা তো!
—(টিকলু ভাই আরো বেশি বেশি রেগে) হ্যাঁ! আমি অবাক। তা এতই বুদ্ধি যখন, একবার কি ভেবেছিলেন যে আবার পেঁয়াজ কিনব কী দিয়ে!
