জীববিজ্ঞান
মো. আসাদ-উজ্জামান, শিক্ষক
সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
দৃৃঢ়তা প্রদান ও চলন
মানব কঙ্কালের সাধারণ পরিচিতি
মানবদেহের কাঠামো হলো কঙ্কাল (Skeleton)। বিভিন্ন ধরনের মোট ২০৬ টি অস্থির সমন্বয়ে মানব কঙ্কাল গঠিত। দেহের কাঠামো গঠন, নির্দিষ্ট আকৃতি দান, বিভিন্ন অঙ্গকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা এবং চলনে সাহায্যকারী তন্ত্রকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
মানব দেহের কঙ্কালতন্ত্রকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. বহি:কঙ্কাল
২. অন্ত:কঙ্কাল।
বহি:কঙ্কাল (Exoskeleton): কঙ্কালের এ অংশগুলো বাইরে অবস্থান করে । যেমন- নখ, চুল, লোম এর অন্তর্ভুক্ত।
অন্ত:কঙ্কাল (Endoskeleton): কঙ্কাল বলতে আমরা অন্ত:কঙ্কালই বুঝি । কঙ্কালের এ অংশগুলো আমরা বাইরে থেকে দেখতে পাই না। অস্থি ও তরুণাস্থি সমন্বয়ে এ কঙ্কালতন্ত্র গঠিত।
কঙ্কালের কাজ :দেহ কাঠামো গঠন : কঙ্কাল মানবদেহকে একটি নির্দিষ্ট আকার ও কাঠামো দান করে । এটি নিচের অঙ্গগুলোর সাথে উপরের অঙ্গগুলোর সংযুক্তি সাধন করে।
রক্ষণাবেক্ষণ ও ভারবহন: করোটির মধ্যে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ডে মেরুরজ্জু এবং হূিপণ্ড ও ফুসফুস বক্ষাগহ্বরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকে এবং দেহের ভারবহন করে।
নড়াচড়া ও চলাচল: অস্থির সাথে পেশি আটকানোর ফলে অস্থি নাড়ানো সম্ভব হয় এবং আমরা চলাচল করতে পারি। এ কাজে পেশিতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লোহিত রক্তকণিকা উত্পাদন: অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা উত্পন্ন হয়।
খনিজ লবণ সঞ্চয়: ক্যালসিয়াম , পটাসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি খনিজ লবণ অস্থি সঞ্চয় করে রাখে।
অস্থি (Bone) :
অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সর্বাপেক্ষা দৃঢ় কলা। অস্থির মাতৃকা বা আন্ত: কোষীয় পদার্থ একপ্রকার জৈবপদার্থ দ্বারা গঠিত ।
১। অস্থির মাতৃকা শক্ত ও ভঙ্গুর । মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে ।
২। অস্থিকোষকে অস্টিওব্লাস্ট (Osteoblast) বলা হয়। এসব কোষ শাখা- প্রশাখাযুক্ত দেখতে অনেকটা মাকড়সার মতো ।
৩। অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
৪। এছাড়া অস্থিতে প্রায় ৪০- ৫০ ভাগ পানি থাকে । জীবিত অস্থিকোষে ৪০% জৈব এবং ৬০% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত ।
৫। অস্থি বৃদ্ধির জন্য প্রচুর ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।
তরুণাস্থি (Cartilage):
তরুণাস্থি অস্থির মতো শক্ত নয়। এগুলো অপেক্ষাকৃত নরম ও স্থিতিস্থাপক। এটি যোজক কলার ভিন্নরূপ। বিভিন্ন অস্থির সংযোগস্থলে, কিংবা অস্থির কিছু অংশে উপস্থিত থাকে । যেমন- কানের পিনার তরুণাস্থি।
১। এর কোষগুলো একক বা জোড়ায় জোড়ায় খুব ঘনভাবে স্থিতিস্থাপক মাতৃকাতে বিস্তৃত থাকে ।
২। এর কোষগুলি থেকে ক্লিন নামক এক প্রকার শক্ত রাসায়নিক বস্তু নি:সৃত হয়।
৩। মাতৃকা ক্লিন দ্বারা গঠিত, এর বর্ণ হালকা নীল।
৪। ক্লিনের মাঝে গহ্বর দেখা যায়, এগুলোকে ক্যাপসুল বা ল্যাকিউনি বলে ।
৫। এর ভিতর ক্লিওব্লাস্ট বা ক্লিওসাইট থাকে ।
৬। সব তরুণাস্থি একটি তন্তুময় যোজক কলা নির্মিত আবরণী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, একে পেরিক্লিয়াম বলে।
