রাস্তার উপর বাস-ট্রাকের পার্কিং

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৮

রাজধানী ঢাকা শহরে জনসংখ্যা দিন দিন বাড়িয়াই চলিয়াছে। তিলোত্তমা এই শহরে জনসংখ্যা এখন প্রায় ২ কোটি; কিন্তু সেই অনুযায়ী অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়িতেছে না। ফলে নানা রকম নাগরিক দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা লাগিয়াই আছে। রাজধানীবাসীর অন্যতম বড়ো ভোগান্তি রাস্তায় গাড়ি পার্কিংজনিত যানজট। দিনের বেলা প্রাইভেট কার যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। একইভাবে বাস-ট্রাকের যেখানে সেখানে পার্কিং এই মহানগরীতে তৈরি করিতেছে নানা রকম দুর্ভোগ। অনেক সময় চালকদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিয়ম না মানিবার কারণেও অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হইতে হয় আমাদের। উদারহরণ স্বরূপ বলা যায়, রাজধানীর মহাখালী হইতে টঙ্গি পর্যন্ত এয়ারপোর্ট রোডের যানজটের মূল কারণ হইল অধিকাংশ আন্তঃজেলা বাস রাস্তায় বিশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করিয়া রাখা। রাত্রিবেলা ছাড়া দিনদুপুরেও অনেক বাস রাস্তায় রাখা হয়। মূলত মহাখালী বাস টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় রাস্তার ওপর এইভাবে অপ্রত্যাশিত চাপ বাড়িতেছে।

১৯৮৪ সালে বৃহত্তর ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে বাস রাখিবার জন্য মহাখালী বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই টার্মিনাল হইতে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের ২০টি জেলায় প্রায় ১ হাজার বাস চলাচল করে; কিন্তু এই টার্মিনালটির ধারণ ক্ষমতা ২৫০ হইতে ৩০০ গাড়ি। অর্থাত্ ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি বাস চলাচল করায় টার্মিনালের সম্মুখভাগ ও আশপাশের রাস্তায় পার্কিং করা হইতেছে শত শত বাস। ইহাতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। যাত্রীরা টার্মিনালের বাহিরেও উঠানামা করায় পথচারী ও যাত্রী সকলের কষ্ট বাড়িয়া যায়। যানজটের কারণে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসিয়া থাকিতে হয়। অনেক সময় রাস্তায় বাস রাখিবার কারণে তাহার যন্ত্রাংশ চুরি হইয়া যায়। ইহাতে বাসমালিকরাও বিপদে পড়েন। ইহা হইতে মুক্তি পাইতে হইলে হয় এই টার্মিনালটি অন্যত্র স্থানান্তর করিতে হইবে, নতুবা ইহার ধারণক্ষমতা বাড়াইতে হইবে। অবশ্য এই টার্মিনালের পিছনে ও পার্শ্বে কিছু খালি জায়গা থাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ইহার ধারণক্ষমতা বাড়াইয়া এখানে একটি অত্যাধুনিক ও মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের কথা চিন্তাভাবনা করিতেছেন।

শুধু মহাখালী বাস টার্মিনালই নহে, রাজধানীতে অবস্থিত সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালেরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়াছে। রাস্তায় জনচাহিদা অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা যে হারে বাড়িতেছে, তাহাতে নূতন নূতন বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা আবশ্যক। শুধু রাজধানী শহরেই নহে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দূরপাল্লা ও মাঝারি পাল্লার নূতন নূতন বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা জরুরি। আবার শুধু বাস নহে, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণেও মহাপরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।