বাংলাদেশ নির্মল বায়ুর দেশ হবে কবে?

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৮

হিমেল আহমেদ

সুজলা সুফলা বাংলাদেশ আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন দূষণের কারণে দেশটির সামগ্রিক পরিবেশ জীবন ধারণের অপরিহার্য উপাদান হারাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম বাংলাদেশে বসবাসের মতো পরিবেশ পাবে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমাদের অসচেতনতা ও দেশপ্রেমের অভাববোধই বাংলাদেশকে ক্রমান্বয় ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে, সেদিকে আমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের দূষণের কারণে দূষিত হয়ে উঠছে বাতাস ও পানি। বায়ু আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম মাধ্যম। বাতাসের মাধ্যমেই অক্সিজেন গ্রহণ করি আমরা। তাই বিশুদ্ধ বায়ু আমাদের সবার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে মাত্রাধিক বায়ুদূষণ ঘটছে, যার ফলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণে ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে বিভিন্ন রোগে আমাদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে। বায়ুদূষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর দিক দিয়ে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ রয়েছে পঞ্চম স্থানে। বৈশ্বিক বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থা ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার’-এর জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে সারা বছরে মারা যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ। এবং যতই দিন যাচ্ছে এই সংখ্যা ততই বাড়ছে। এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে খুব ভয়াবহ অবস্থা হবে আমাদের সবার এতে সন্দেহ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি দশ জনের এক জন মারা যাচ্ছে বায়ুদূষণের কারণে। সম্প্রতি বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা আইকিউএয়ার, এয়ারভিস্যুয়াল ও গ্রিনপিসের একটি গবেষণা বলছে, সারা বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে বিভিন্ন দেশের বায়ুতে দূষণের মাত্রা কত ছিল, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বাতাসের মধ্যে পিএমটুপয়েন্টফাইভ নামে পরিচিত একধরনের সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতি হিসাব করে এই প্রতিবেদন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের বাতাসে পিএমটুপয়েন্টফাইভের গড় মাত্রা ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। এরপরই রয়েছে পাকিস্তান ও ভারত। উক্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় বাংলাদেশ কতটা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাতাসে থাকা বিষাক্ত পিএমটুপয়েন্টফাইভ নামক সূক্ষ্ম কণা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটা মানুষের দেহের রক্তকণিকা ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রতিদিন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এই বিষাক্ত কণা আমরা গ্রহণ করছি এবং নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন, বায়ুদূষণের কারণে আগামী বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ অকালমৃত্যুর ঘটনা ঘটবে। এটি অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তাই বায়ুদূষণ রোধে আমাদের জাগ্রত হতে হবে। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বায়ুদূষণের কারণে আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। সেগুলো হলো হূদেরাগ, কাশি, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ, ফুসফুসের ক্যানসার, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ, স্ট্রোক, চোখে ছানি পড়াসহ শিশু ও গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন রোগ। এতগুলা রোগে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি শুধু দূষিত বায়ুর কারণে। আর আমরা এসব সমস্যার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছি না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং সে অনুযায়ী চাহিদা ও ব্যাপক জনঘনত্বের কারণে সব ধরনের সেবা, সুযোগ, সম্ভাবনা একটা বড়ো রকমের চাপের মুখে পড়ে গেছে। আর এ কারণেই ঢাকার অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য শহরের মতোই হয়ে গেছে। তাই ঢাকাকে বাঁচাতে সুদূর পরিকল্পনা গ্রহণ করা অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। বিশেষ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমাদের সজাগ হতে হবে। এখনই সময় সারাদেশে দূষণ বিষয়ে গণজোয়ার সৃষ্টি করা। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা আমাদের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বায়ুদূষণ জেনেও আমরা কজন মাস্ক ব্যবহার করি? সরকার তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশকে অযোগ্য হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে। তাই আমাদেরও উচিত সরকারকে পর্যাপ্ত সাহায্য ও সহযোগিতা করা। তাই আসুন, আমরা নিজেরা সচেতন হই। দূষণের বিরুদ্ধে জাগ্রত হই। আমাদের লড়াই করতে হবে আমাদের দেশের জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য। তবেই বাংলাদেশও হবে নির্মল বায়ুর স্বচ্ছ একটি দেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ