৬৫ হাজার টিকিট বিক্রি!

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ২০:১৫

মঙ্গলবারের ম্যাচ ঘিরে কলকাতার ফুটবলে টানটান উত্তেজনা। মুখিয়ে আছে কলকাতার দর্শক। গতকালও দেখা গেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল যখন মাঠে অনুশীলন করছে তখন স্টেডিয়ামের কাউন্টারগুলোতে দর্শকের ভিড়। টিকিটের জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু টিকিট পাবে কোথায়। টিকিট নেই।

ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ মুখার্জী ইত্তেফাককে বলেন, ‘সব টিকিট শেষ। অনলাইনেও টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। মোট ৬৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।’

নিরাপত্তা নিয়েও বেশ ‘সিরিয়াস’ আয়োজকরা। তিনি বলেন, ‘পুলিশ থাকছে তারপরও প্রাইভেট পুলিশ থাকবে। দর্শক উত্তেজনা থাকে এসব ম্যাচে। তাই ফায়ার সার্ভিসও উপস্থিত থাকবে।’  

আইএফএও বুঝতে পারছে বাংলদেশ ভারত ম্যাচ ঘিরে কলকাতার ফুটবল আবেগে ভাসছে। স্টেডিয়ামে দর্শক উপচে পড়বে। সল্ট লেকে বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন নামে পরিচিত সল্ট লেকের স্টেডিয়াম। ৮৪ সালে উদ্বোধন। প্রথম দিকে লাখ দর্শকের উপস্থিতি থাকলেও সেই স্টেডিয়ামে দর্শক আসন কমে গিয়েছে।

২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফুটবল হয় ভারতে। কলকাতায় ফাইনাল। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে সল্ট লেকের স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ হয়েছিল। তখনই স্টেডিয়াম অঞ্চলটা ফুলে ফুলে সাজানো হয়। স্টেডিয়ামের দর্শক আসনও কমে যায়। এখন ৬৬ হাজার দর্শক বসতে পারবে। সাধারণ দর্শকের টিকিট হাতে হাতে চলে গেছে। সবচেয়ে কম দামি টিকেট হলো ১০০ ভারতীয় রুপি।

এখানকার ফুটবল ইতিহাস বলছে ইষ্ট বেঙ্গল এবং মোহন বাগানের খেলায় দর্শক সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর আর হয়নি। তা ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে আবার লিগের খেলায় ইষ্ট বেঙ্গল মোহন বাগান ম্যাচে উপচেপড়া দর্শক এসেছিল। এই দুই দলের খেলা হলে স্টেডিয়ামের বাইরে তিন কিলোমিটার পথ জুড়ে ট্রাফিক জ্যাম হয়। চলাচল বিঘ্নিত হয়।

অথচ ভারতের খেলায় এতোটা হয় না। স্থানীয় দর্শক সুদীপ্ত ব্যানার্জী বলছেন, ‘দেশের খেলা হলেও টিকিট চাহিদা এতো হয় না।’ তাহলে কেন আগামীকাল বাংলাদেশ ও ভারত ম্যাচ ঘিরে এতো উত্তেজনা!

শেষবার ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতিম্যাচ খেলে ভারত ৩-২ গোলে জিতেছিল। এরপর আর সল্ট লেকে যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে দেশের খেলা দেখা হয়নি কলকাতার দর্শকদের। ৮ বছর পর ভারত জাতীয় ফুটবল দল কলকাতায় খেলতে আসছে। বাড়তি আবেগ তো আছেই।

তার ওপর ভারতীয় দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর ইস্তিমাচ চড়া গলায় ডাক দিয়েছেন সবাই যেন মাঠে হাজির হন। এরই মধ্যে এই ক্রোয়েট জেনেছে মাঠে বাংলাদেশের সমর্থকরাও থাকবেন। সেকথা শুনে ভারতের কোচ ইগর কলকাতার দর্শকদের বলেছেন, ‘সবাই এক সঙ্গে বসে খেলা দেখবেন। তবে ওরা (বাংলাদেশ) যদি দ্বিগুণ আওয়াজ করে আমাদেরকে চার গুণ বেশি আওয়াজ তুলতে হবে। যেন আওয়াজেই বাংলাদেশ ফুটবল দল হারিয়ে যায়।’

এই ক্রোয়েট সংবাদ মাধ্যমকে আরো বলেন, ‘দর্শকে স্টেডিয়াম ভরে ফেলুন। দর্শকই ম্যাচটার অর্ধেক জিতিয়ে দেবে। বাকিটা সুনীলদের দায়িত্ব।’