বিশ্বকাপ, শ্রীলঙ্কা সফরে উপেক্ষিত ছিলেন জাতীয় দলে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টটি খেলার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু ছেলের অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি ইমরুল কায়েস। ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় যেতে পারেননি একই কারণে।
বেশ কিছুদিন ক্রিকেটের বাইরে কাটাতে হয়েছে বাঁহাতি এই ওপেনারকে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) দিয়ে ক্রিকেটে ফিরেছেন ইমরুল। ফেরার ক্ষণকে ব্যাট হাতে রাঙিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিজ্ঞ এই ওপেনার গতকাল খুলনার হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে রংপুরের বিরুদ্ধে তার অপরাজিত ২০২ রানের ইনিংসটা নানা দিক থেকে তাত্পর্যপূর্ণ।
ম্যাচটা ড্র হলেও প্রথম ম্যাচেই রানের সন্ধান পাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়েছে ইমরুলের মনে। খুলনার লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ১৮তম সেঞ্চুরিটা করেছেন। পরে ইনিংসটা ডাবলে নিয়ে গেছেন রাজ্জাক, রুবেল, আল-আমিনদের নিয়ে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ৩১১ বলে।
ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করে খেলে গেছেন ইমরুল। নবম উইকেটে রুবেলের সঙ্গে গড়েছেন ৮৪ রানের জুটি, যেখানে রুবেলর অবদান ২। শেষ উইকেটে আল-আমিনের সঙ্গে তুলেছেন ৫২ রান। আল-আমিন অপরাজিত ছিলেন ১ রানে। ৩১৯ বলে ১৯টি চার ও ৬টি ছক্কায় অপরাজিত ২০২ রান করেছেন ইমরুল। খুলনাও ৯ উইকেটে ৪৫৪ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় ইমরুলের কণ্ঠেও পাওয়া গেল স্বস্তির সুর। ৩২ বছর বয়সি এই ওপেনার গতকাল বলেছেন, ‘এখন তো প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে অনেক। এখন যদি এভাবে না খেলি, তাহলে তো টিকে থাকা মুশকিল। সবকিছু মিলিয়ে নিজের নামের সঙ্গে সুবিচার করা, অনেক দিন ক্রিকেটে ছিলাম না। আমি খুব ঠান্ডা মাথায় খেলেছি। যারা দেখতেছে তাদের জিগ্যেস করলে জানবেন, আমি কোনো সুযোগ দিইনি। হুটহাট শট খেলিনি।’
লোয়ার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খেলা কতটা কঠিন ছিল জানতে চাইলে ইমরুল বলেছেন, ‘কঠিন মানে, লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান, যে কোনো সময় আউট হতে পারে। এক নিয়ে নিয়ে খেলেছি। ৯০-এর ঘর থেকে এভাবেই চলেছে। রুবেল খুব ভালো সাপোর্ট দিয়েছে আমাকে।’
বড়ো ইনিংস দিয়ে এনসিএল শুরু। নির্দিষ্ট টার্গেট না থাকলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান ইমরুল। গতকাল বলেছেন, ‘লক্ষ্য নির্ধারণ করিনি, তবে চেষ্টা করছি। এখন তো খুলনায় তিনে নামি। পরের রাউন্ডে জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার আসবে। অনেকে বাদ পড়বে। এগুলো তো চ্যালেঞ্জ। এখন রান না করলে আমি কী করেছি না-করেছি মানুষ মনে রাখে না। আমি যদি খারাপ খেলি, তাহলে তো আমার কথা চিন্তা করবে না।’
তবে এই ইনিংস দিয়ে নিশ্চিতভাবেই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন ইমরুল।
