আমাদের শরীরের বেশিরভাগই হচ্ছে পানি। অধিকাংশ লোকই ওষুধ ছাড়া বাঁচতে পারে, কিন্তু পানি ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে না। চিকিত্সাবিজ্ঞানীদের মতে, জনগণ যদি ঠিকভাবে পানি ব্যবহার করতে জানত এবং করতে পারত, তাহলে রোগ ও মৃত্যুর হার বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক কমে যেত। যথাযথভাবে পানি ব্যবহার করতে পারলে সাধারণত কোনো ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না এবং অনেক উপকার পাওয়া যায়।
বিশুদ্ধ পানি পান করুন। নিয়মিত বাথরুম করার পর এবং কোনো কিছু খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। এতে ডায়রিয়া, কৃমি ও অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধ করা যাবে। নিয়মিত গোসল করুন এবং সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। এতে চর্মরোগ ও ক্ষত সংক্রমিত হবে না। প্রচুর পানি কিংবা পানীয় পান করুন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য ও মূত্রতন্ত্রের হালকা সংক্রমণ এড়ানো যাবে। প্রচণ্ড জ্বর হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিন বা স্পঞ্জ করুন। সংক্রমণজনিত ক্ষত, ফোঁড়া ইত্যাদি হলে গরম পানির ছেঁক বা পট্টি দিন।
শরীরের চামড়া চুলকালে, জ্বালাপোড়া করলে বা কষ ঝরলে ঠান্ডা পানির ছেঁক দিন। কাশি, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, হুপিং কাশি হলে প্রচুর পানীয় পান করুন এবং গরম পানির ভাপ নিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে টেনে নিন। এতে শ্লেষ্মা তরল হবে এবং বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। সামান্য পুড়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে পুড়ে যাওয়া অঙ্গ বা অংশটি চুবিয়ে রাখুন। গলায় ঘা কিংবা টনসিলের প্রদাহ হলে গরম পানিতে লবণ দিয়ে গড়গড়া করুন। খুশখুশে কাশিতেও এ অবস্থায় আরাম হয়। সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে থাকলে লবণ মেশানো পানি নাকে টানতে থাকুন। চোখে রাসায়নিক পদার্থ বা ধুলাবালি গেলে চোখ সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।ধী
