নাগেশ্বরীতে ভাঙা ব্রিজে এক যুগ ধরে পারাপার

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১২

নাগেশ্বরীতে ভাঙা ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক যুগ ধরে পারাপার হচ্ছে ১৫ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। একটু অসাবধানতায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগে এলাকাবাসী।

উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারী ভবানীকুড়া বিলের ওপর ১৯৯২ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে শুধুমাত্র হালকা যানবাহনসহ মানুষ পারাপারে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় নকশার ওপরে তেমন কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ২০০৭ সালে ব্রিজটির রেলিংয়ের বেশিরভাগ অংশ ও স্লাবের কয়েক জায়গায় ঢালাই ধসে গিয়ে রড বেরিয়ে যায়। দীর্ঘ একযুগ ধরে সংস্কারের অভাবে এখন ব্রিজের উপরিভাগের স্লাবের প্রায় সম্পূর্ণই ধসে গেছে। রেলিং নেই বললেই চলে।

সংস্কারবিহীন ব্রিজটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ব্রিজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রকৌশল অফিস। কিন্তু ঐ এলাকার মানুষদের পারাপারে বিকল্প কোনো ব্রিজ না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটির বীমের ওপর দিয়ে চলাচল করছে সাতানা, শিকদারপাড়া, সরকারপাড়া, পুষ্করিণীর পাড়, দিগদারীর পাড়, ভবানীপুর, ঝাকুয়াটারীসহ ১৫ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় আজিজুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, গোপাল চন্দ্রসহ অনেকেই জানান, এভাবে চলতে গিয়ে একটু অসাবধানতায় সেখানে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাচ্চু বলেন, ব্রিজটির ৭০-৮০ ভাগ অংশ ভেঙে গেছে। ঐ এলাকার মানুষের পারাপারের জন্য এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী বাদশাহ আলমগীর জানান, ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী। আমরা দুই বছর পূর্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এ একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এবারেও নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।