বগুড়ায় তাঁতশিল্প বেহাল

প্রশিক্ষণের অভাব ও সুতার দাম বেশি

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৩

বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা এ চার জেলায় তাঁতশিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বগুড়ায় স্থাপিত তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টারের আওতাধীন এ ক্ষুদ্র শিল্প থমকে আছে। প্রতি বছরেই গড়ে কমপক্ষে ১০০ তাঁত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুতার দাম বেশি এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের অভাবেই এমনটা ঘটছে বলে দাবি করছে মাঠ পর্যায়ের তাঁতিরা।

এদিকে ক্ষুদ্র এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে বগুড়ায় একটি বহুতল প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও ভবন নির্মাণের কাজ এখনো শুরু করা হয়নি। তবে গণপূর্ত বিভাগ আশা করছে প্রকল্পটির ভবন নির্মাণকাজ আগামী জানুয়ারি মাসে শুরু করা যাবে।

বগুড়ার কাহালু উপজেলা সদরে ১৯৯৯ সালে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারিভাবে তাঁত বোর্ডের বেসিক সেন্টার স্থাপন করার পর এই বেসিক সেন্টার থেকে চার জেলার তাঁত শিল্পের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি প্রতিষ্ঠালগ্নে তাঁতিরা অনেকটা উদ্দীপনা নিয়ে তাদের তাঁতযন্ত্র চালিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন এই পেশা ধরে রাখতে পারছে না নানা প্রতিকূলতার কারণে। সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় পোষাতে না পারায় এবং সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে তাঁতিরা তাদের তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারছে না বলে তাঁতিদের দাবি।

কাহালু উপজেলার মালঞ্চা গ্রামের তাঁতি জবেদ আলী জানান, আগে তার তাঁত ছিল পাঁচটি, ব্যবসাও ছিল বেশ রমরমা। কিন্তু সুতা ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন ব্যয়ের তুলনায় তাদের উত্পাদিত পণ্যের দাম না বাড়ায় তিনি এখন মাত্র একটি তাঁত চালাচ্ছেন। তিনি জানান, আগে এক মোড়া সুতা কিনেছে ৩৫ টাকায়। এখন এক মোড়া সুতার দাম ৪৫ টাকা। জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দেবখন্ড গ্রামের তাঁতি মহাজন হিসেবে পরিচিত শাহাজাহান আলী জানান, তার ১২টি তাঁত ছিল, এতে ৪৫ জন কারিগর গামছা ও চাদর তৈরি করত। কিন্তু গত দশ বছর যাবত্ সুতার দাম বাড়তে থাকায় লাভ খুবই কম হচ্ছে বিধায় বর্তমানে তার ছয়টি তাঁত রয়েছে বাকি ছয়টি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

কাহালু বেসিক সেন্টারের তথ্যমতে বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় রয়েছে ৫ হাজার ১৬৪টি তাঁত ও ৩ হাজার ৭৬৮ জন তাঁতি। তাঁত শিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে ৪৫০ জন তাঁতি। গড়ে প্রতি বছর মাত্র ৬০ জন তাঁতিকে ভ্রাম্যমাণভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর আর্থিক সহায়তা হিসেবে শতকরা ১০ ভাগ সরল সুদে ২১৩ জন তাঁতিকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই বেসিক সেন্টারে জনবল আছে মাত্র তিন জন। এই জনবল দিয়ে চার জেলায় তাঁত ও তাঁতিদের মনিটরিং ও সুপারভিশন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

কাহালু তাঁত বোর্ডের বেসিক সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য। সুতার দাম কিছুটা বেশি হলেও কোনো তাঁতিই লোকসানে নেই। 

প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাকিবিল্লাহ জানান, প্রকল্পটি একনেকে পাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। আগামী জানুয়ারি মাসেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। এখানে পঞ্চম তলাবিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণ করতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।