ভালো শিক্ষক, ভালো পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক, শ্রেণিকক্ষে আনন্দমুখর পাঠদান এবং জীবনমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা—এ চারটি বিষয়ের যথার্থ সমন্বয় না হলে শিক্ষার মান বাড়ে না। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো দেশের জাতীয় আয়ের ৬% বা বাজেটের ২০% শিক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্যে রাখা হয়। এ সত্যটুকু অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপির চার শতাংশ বরাদ্দ না হলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন সম্ভব নয় এবং এ বরাদ্দটা আসলে হচ্ছে বিনিয়োগ।’ অথচ আমাদের বরাদ্দ এখনো দুই শতাংশের সামান্য ওপরে। বৈষম্যযুক্ত এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ২০১৫-তে বৈষম্য নিরসন কমিটিতে আলোর মুখ কেন দেখেনি তা বলা মুশকিল। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বৈষম্যের সন্তোষজনক সমাধান হলেও, প্রাথমিক সহকারীদের আবেদন অবহেলিতই থেকে যায়। সহকারী শিক্ষকরা প্রধানশিক্ষকের সমান যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেও শুধু পদ দুটির কারণে তিনধাপ বেতনস্কেলের পার্থক্যের শিকার। অথচ একই বিভাগের অন্যান্য পদ যেমন AUEO, TEO, ADPEO এই পদগুলোতে প্রত্যেক পদের বেতন পার্থক্য একধাপের বেশি নয়। এসএসসি+কৃষি ডিপ্লোমা=১০ম গ্রেড, নার্সরা এইচএস+ডিপ্লোমা=১০ম গ্রেড, সচিবালয়ের ক্যাটালগার ১৪তম থেকে ১০ম গ্রেড; অথচ প্রাথমিক শিক্ষকরা স্নাতকোত্তর+ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে) ১৪তম গ্রেড, যা সমীচীন নয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ‘ন্যায্যতার ভিত্তিতে বৈষম্য নিরসনের অঙ্গীকার’। সুতরাং সহকারীদের ১১তম ও প্রধানশিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবসান ঘটুক প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্লেদাক্ত জীবনের।
হুমায়ুন কবির
সহকারী শিক্ষক,
কন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
সদর, ময়মনসিংহ
