অন্য বছরগুলোর মতো ২০১৮ সালও শেষ হতে চলেছে। কয়েকদিন পরেই শুরু হবে নতুন বছর। অন্য বছরগুলোর তুলনায় ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তিকে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, চলতি বছরের প্রযুক্তির প্রবণতা বিদ্যমান থাকবে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ডেটডি নেট ডটকম-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যে প্রযুক্তিগুলো আগামী ১০ বছর নেতৃত্ব দিবে সেগুলো নিয়ে বিস্তর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কী এমন প্রযুক্তি যা এখন থেকে আগামী ১০ বছর নেতৃত্ব দিবে? চলুন এই প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে জেনে নিই—
ক্লাউড কম্পিউটিং
২০১৮ সালেই ক্লাউড সেবাকে সাজনো হয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের প্রয়োজনের মতো করে যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এডব্লিউএস ও ভিএমওয়্যার যৌথভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংকে উচ্চাকাঙ্খায় নিয়ে এসেছে চলতি বছরেই। বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা চলু হয়েছে। গুগলের প্লাটর্ফমটি পরিচালনার জন্য ওরাকল ক্লাউডের সাবেক প্রধান কর্মকর্তা থমাস কুরিয়ানকে গুগলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রযুক্তি নির্মাতা ও প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইবিএম মাল্টিক্লাউড খাতে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এ কার্যক্রমগুলো হলো বাণিজ্যিকভাবে আগ্রগতির লক্ষণ। এমঅ্যান্ডএ-সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান ক্লাউড কম্পিউটিং খাতকে আরো ফোকাসের জন্য করতে কাজ করছে। এই খাতটি এখন আর শুন্য স্থানে নেই, ধীরে ধীরে হাইব্রিডে পরিণত হচ্ছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় ২০১৮ সালে এই খাতটি পরিপক্কতা অর্জন করেছে। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে এডব্লিউএস, মাইক্রোসফট, গুগল, আইবিএম, ওরাকল ও আলিবাবা।
ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)
ডিভাইস বা যন্ত্রে ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ বা ‘সব যন্ত্রেই ইন্টারনেট’ এখন বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ২০২৮ সাল নাগাদ আইওটির সর্বত্র ব্যবহার হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১০ বছরে ঘরের দরজা থেকে শুরু করে বাস গাড়ির জানালার কাঁচ পযর্ন্ত সব কিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য আইওটি ব্যবহার করা হবে। আসন্ন ফাইভজি প্রযুক্তির বিভিন্ন সুবিধাগুলো ভোগ করতেও আইওটি বেশ কাজে আসবে।
ইন্টারনেট অব থিংস বিষয়টিকে সংযোগ সুবিধার যন্ত্র যেমন গাড়ি, পোশাক বা গৃহস্থালিতে ব্যবহূত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট আন্তসংযোগ হিসেবে বোঝানো হয়। প্রতিটি যন্ত্র যাতে তারবিহীন যোগাযোগ পদ্ধতিতে পরষ্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে, সেই নেটওয়ার্কই ‘ইন্টারনেট অব থিংস’। বিজনেস ইনটেলিজেন্স বা বিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সাল নাগাদ ইন্টারনেট অব থিংসের বাজার স্মার্টফোন, পিসি, ট্যাব, ইন্টারনেট সুবিধার গাড়ি ও পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যের সমন্বিত বাজারকেও ছাড়িয়ে যাবে।
এ ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সাশ্রয়ই হবে প্রবৃদ্ধির অন্যতম লক্ষ্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি সম্প্রতি সময়ে বেশ আলোচিত একটি বিষয়। প্রযুক্তির প্রবণতার অন্য বিষয়গুলোর মতো কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাও পিছিয়ে নেই। ২০১৮ সালে এই খাতেও বিনিয়োগ বেড়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এই প্রযুক্তির প্রবাণতায় হয়তো আমাদের ভূঁতুরে পরিবেশে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়াও বিশ্বাস অর্জনের জন্য এখনো মেশিন টেস্টিং কার্যক্রম বাকি রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার জন্য ১২০ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর মধ্যে একটি সমীক্ষা চালান গবেষকেরা। এতে ৭৭ শতাংশ মত দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন ভূমিকা সৃষ্টি করবে। ৫৭ শতাংশের বিশ্বাস হচ্ছে বর্তমান অবস্থানকে সরিয়ে দেবে এসআই। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তাই বাড়তি দক্ষতা দরকার হবে। অর্ধেকের বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
অনেকে আশঙ্কা করেন, ট্রাকচালকের জায়গা নেবে স্বয়ংক্রিয় গাড়িব্যবস্থা। ব্যস্ত সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করা কঠিন। ক্লান্ত চালকদের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
ধারনা করা হচ্ছে ২০২৮ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিপ্লব আসবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম এলগরিদম বলতে এমন একটি এলগরিদম বোঝায় যা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর সত্যিকার মডেলের উপর ভর করে চলে, যা পরিমাপের কোয়ান্টাম সার্কিট মডেলে বহুল ব্যবহূত হয়। এলগরিদম নির্দেশাবলীর সীমিত ধারা, অথবা একটি সমস্যা সমাধানের ক্রমশ ধারা, যেখানে ধারার প্রত্যেক অংশ সাধারন কম্পিউটার দিয়ে তৈরি করা যায়। কোয়ান্টাম এলগরিদমও একই ব্যবস্থা যার ধারার প্রত্যেক অংশ কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে করা হয়। যাদিও কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সাধারন কম্পিউটারের সব কাজ করা যায়। ধারনা করা হচ্ছে ২০২৮ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিপ্লব আসবে। বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি ডেভেলপমেন্টের প্রথম পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রযুক্তিটি আগামী দশ বছরে অনেকদূর যেতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তিটি এখনো পরিপক্ক নয়, তবুও আগামী ১০ বছরে ডাটা সেইভ করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে। সূত্র: ডেটডি নেট ডটকম
