রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে প্রতীক পেয়ে শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। তবে এ আসনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক (নৌকা) ও জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু (লাঙ্গল)। ফলে দুই চৌধুরীর নৌকা-লাঙ্গলের লড়াই হবে এই আসনে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবলু চৌধুরীর চাচাতো ভাই প্রয়াত আব্দুল মমিন চৌধুরীর ছেলে হলেন ডিউক চৌধুরী। সম্পর্কে সাবলু চৌধুরীর ভাতিজা ডিউক চৌধুরী। ভোটের মাঠে চাচা-ভাতিজার লড়াই এ আসনের ভোটারদের মাঝে তাই বাড়তি উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন সাবলু চৌধুরী। ওই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডিউক চৌধুরী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে এ আসনে চলছিল উত্তেজনা। কে কাকে আসনটি ছাড় দিচ্ছেন এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে যায় এ আসনটি। ফলে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী চাচা ও ভাতিজা লাঙ্গল ও নৌকা নিয়ে লড়াইয়ে মাঠে টিকে আছেন।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর প্রার্থীরা হলেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার (বিএনপি-ধানের শীষ), সাবেক এমপি আনিছুর রহমান মন্ডল (স্বতন্ত্র সিংহ), আশরাফ আলী (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), কুমারেশ চন্দ্র রায় (জাসদ-মশাল), হারুন অর রশিদ (বিকল্পধারা-কুলা), আশরাফ-উজ-জামান (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), জিল্লুর রহমান (বিএনএফ-টেলিভিশন) এবং ওয়াসিম আহমেদ (এনপিপি-আম)।
বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টুটুল চৌধুরী চাচা-ভাতিজার লড়াইয়ের প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনী মাঠে পিতা-পুত্রের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে চাচা-ভাতিজা কোনো বিষয় নয়। জয় নৌকারই হবে।
এদিকে বদরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক জানান, রংপুরের মানুষ বরাবর জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়েছেন। আশা করি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তারা জাতীয় পার্টি লাঙ্গল মার্কাকেই নির্বাচিত করবে।
