আলু

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৩

আলু আমাদের অতি পরিচিত ও পছন্দের একটি সবজি। পুষ্টিগুণের দিক থেকে আলু যেমন উপকারী ও তেমনি প্রয়োজনীয়। অনেকে আলুকে কার্বহাইড্রেড ও এক্সট্রা ক্যালরির উত্স বললেও আলুর অন্যান্য উপকারিতাও রয়েছে।

আলুর পুষ্টি উপাদান :কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য আলু। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে আছে উচ্চমানের ক্যালরি, প্রায় ৯৬ কিলোক্যালরি। ৬০ গ্রাম আলু ভাজিতে প্রায় ২৩৫ কিলোক্যালরি এবং ৪০ গ্রাম আলুর চিপসে প্রায় ২০৫ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। আলুতে স্বল্প পরিমাণে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। আলুর খোসায় খাদ্য আঁশ আছে ১০০ ভাগ। আরও আছে আয়রন, পটাশিয়াম এবং কলিন। এতে ভিটামিন ‘বি’ আছে কিছু পরিমাণে। তাই খোসাসহ আলু রান্না করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে রয়েছে

শর্করা :১৯ গ্রাম,

খাদ্য আঁশ :২.২ গ্রাম,

উদ্ভিদ প্রোটিন :২ গ্রাম,

খনিজ লবণ :০.৫২ গ্রাম, যার মধ্যে পটাশিয়াম লবণই ০.৪২ গ্রাম ভিটামিন :০.০২ গ্রাম।

আলুর উপকারিতা

আলু শর্করাসমৃদ্ধ সবজি। দেহের ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক। এ খাদ্য সহজে হজম হয়। আলুকে বলা হয় অ্যাসিডিটি এবং স্কার্ভি ও রিউমেটিক প্রতিরোধক। যাদের হজমের সমস্যার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য আলু বিশেষ উপকারী। হূদরোগ প্রতিরোধেও সহায়ক। তবে সমস্যা হলো আলু বেশি খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ে। আলুর প্রোটিন কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী। ডায়রিয়া হলে আলু খেলে সহজে ঘাটতি পূরণ হয় এতে অতিরিক্ত ক্যালরি থাকার কারণে। শিশুদের জন্য আলু খুবই সহায়ক খাদ্য। 

রোগ প্রতিরোধে :আলুতে থাকা ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-বি আমাদের শরীরের দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। আলুতে কোনো চর্বি বা ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ এতে আছে লোহা ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান। এই দু’টি খনিজ উপাদান হার্টের অসুখ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি শরীরের উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আলু রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি একটি উপকারী খাদ্য। আবার এক ধরনের প্রোটিনেস ইনহিবিটর থাকায় এটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। নিয়মিত আলু খেলে প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া থাকে না।