মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদেরকে তিনটি আসনে ছাড় দিয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ একটি আসনেও ছাড় না দেয়ায় জাপা প্রার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। তিনটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জাপা প্রার্থী।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও এমপি মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে গাজী শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজীকে (নৌকা)। এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ)। এ কারণে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ পড়েছেন। জাপা প্রার্থী হচ্ছেন— দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা জাপা সভাপতি শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক (লাঙ্গল)। এ আসনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরে প্রত্যাহার করে নেন। জাপার বর্তমান এমপি আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও জোটের সমর্থন না পেয়ে প্রত্যাহার করেন। জাপা প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক জোটের সমর্থনের ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাকে হতাশ হতে হয়েছে। অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন— চৌধুরী ফয়সল শোয়েব (মই), মোঃ নূরুল হক (গামছা) ও জুবায়ের আহমেদ (মোমবাতি)। আর হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমীরীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হচ্ছেন— জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ খান (নৌকা)। এখানে সকলকে চমকে দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিয়েছে খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদকে (ধানের শীষ)। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যেতে হয়েছে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবনকে। এ আসনে জাপা মনোনীত প্রার্থী জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক শংকর পালও (লাঙ্গল) শেষ মুহূর্তে মহাজোটের মনোনয়ন পাননি। এ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন— মনমোহন দেবনাথ (গামছা), পরেশ চন্দ্র দাশ (আম), আবুল জামাল মসউদ হাসান (হাতপাখা) ও সাংবাদিক আফছার আহমদ রূপক (সিংহ)। হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হচ্ছেন— জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি (নৌকা)। বিএনপির জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র জিকে গউছ (ধানের শীষ)।
তিনি পৌরসভার মেয়র পদত্যাগ করে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে ও জাপা মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন— জেলা জাপা সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক (লাঙ্গল)। তিনি একই সঙ্গে হবিগঞ্জে-১ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু কোনো আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পাননি। এখানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই জমজমাট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন— মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল (হাতপাখা) ও পীযূষ চক্রবর্তী (কাস্তে) এবং হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুব আলী (নৌকা)। এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের (ধানের শীষ)। এই কারণে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপি সভাপতি শিল্পপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেছেন। এ আসনে জাপার কোনো প্রার্থী নেই। অন্য প্রার্থীরা হলেন— শেখ সামছুল আলম (হাতপাখা), সোলায়মান খান রাব্বানী (মোমবাতি) ও আনছারুল হক (গোলাপ ফুল)।
