কক্সবাজারে পেঁয়াজের দাম আবার চড়া!

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৯

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার

বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি স্থগিত ঘোষণার পর দাম নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা রোধে প্রতিবেশী মিয়ানমার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সংকট মোকাবিলা করে ৫৫-৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রির মূল্য নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন। সেভাবে কিছুদিন চললেও চলতি সপ্তাহের শুরু হতে পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আবারও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। আড়তদাররা এখন কৌশলে সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দোকানে আকস্মিকভাবে ‘হাওয়া’ হয়ে গেছে পেঁয়াজ। দোকানিরা ক্রেতাকে সাফ জানাচ্ছে ‘পেঁয়াজ নেই’।

কিন্তু মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ প্রতিদিন আমদানি হচ্ছে। যা চট্টগ্রাম-ঢাকার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন হাটবাজারেও সরবরাহ হচ্ছে। চলতি মাসের গত রবিবার পর্যন্ত ১৩ দিনে মিয়ানমার থেকে আমদানির পরিমাণ ৭ হাজার দশমিক ৪৮৩ মেট্রিক টন। যেখানে রবিবার একদিনেই ঢুকেছে ৭৬০ দশমিক ৫৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। সেপ্টেম্বরে এসেছে ৩ হাজার ৫৭৩ মেট্রিক টন এবং আগস্টে তা ছিল ৮৪ মেট্রিক টন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার শহরের বড়ো বাজারসহ পুরো ব্যবসায়িক এলাকায় একটি চক্র কৌশলে সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতানোর অপচেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অ্যাকশনে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

শহরের রুমালিয়ারছরা এলাকার বাসিন্দা রুবেল ওয়াহিদ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে বড়ো বাজারে দেখি অধিকাংশ দোকানেই পেঁয়াজ নেই। যে কয়েকটিতে অল্পসল্প পেঁয়াজ রয়েছে তা কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকা না দিলে মিলছে না। কেউ কয়েক কেজি চাইলেও দেওয়া হচ্ছে না। আহমদ ইসমাইল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, পৌরসভার গুমগাছতলার আস্বাদনী সুপার শপেও বলা হয়েছে দোকানে পেঁয়াজ নেই। অল্প পরিমাণে যা আছে তা কেজিতে ৮০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে।

দোকানিদের মতে, শহরের আড়তদারদের কাছে পেঁয়াজের মজুত নেই। টেকনাফ ও চট্টগ্রামের আড়তদারগণ চাহিদামতো পেঁয়াজ দিচ্ছে না। সরবরাহ না থাকায় আকস্মিক এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি বলে দাবি তাদের। তবে, অনেকের অভিযোগ আড়তদাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।

সদরের লিংকরোড এলাকার পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা নাসিরুদ্দীনের মতে, মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ আনতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমদানিকারকরা দাম বাড়তি নেওয়ায় পরিবহন খরচসহ কক্সবাজারে এনে প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, রবিবার রাতেই অভিযোগ পেয়েছি। সোমবার দুপুর থেকে বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসনের একটি টিম মাঠে নেমেছে। মিয়ানমার থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজ যেন ন্যায্যমূল্যে ব্যবসায়ীরা কিনতে পারেন সে ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সংকটের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

আমদানিকারকদের মতে, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু বন্দরে শ্রমিক অব্যবস্থাপনা ও জেটির অভাবে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাসের আগেই ট্রলারে পচে যাচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এ ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। ট্রলারে পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পেঁয়াজের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

কিন্তু টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট এর ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন সংকটের কথা অস্বীকার করে বলেন, বন্দরে শ্রমিক সংকট নেই। দুটি জেটি দিয়ে দ্রুত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রির মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন দাম আবারও ৮০-১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।