টাঙ্গাইলে মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০১

প্রধান আসামি গ্রেফতার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দী এলাকায় শনিবার রাতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও তার চার বছরের কন্যাকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতেই তাকে এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি হচ্ছে নিহত লাকী বেগমের স্বামীর বন্ধু রাইজ উদ্দিন। তিনি টাঙ্গাইল শহরের চরপাতুলি এলাকার মৃত সুকুম উদ্দিনের ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির মুরগীর খোঁয়াড় থেকে নগদ ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ঘরের ভেতর থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি ছোরা, পাশের এক ধান খেত থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় আসামির পরনে থাকা রক্তাক্ত শার্ট ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব  তথ্য জানান।

টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দী এলাকায় শনিবার রাতে ব্যবসায়ী আলামিনের স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাকী বেগম (২২) ও তার চার বছরের কন্যা আলিফাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। আসামি রাইজ উদ্দিন পরে ঘরের ড্রয়ার থেকে ৮ লাখ টাকা লুট করে। পরের দিন রবিবার বিকালের দিকে নিহত লাকী বেগমের বাবা হাসমত আলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করলেও মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামিকে প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায় তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। টাকার জন্যই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন উল্লেখ করে আসামি পুরো ঘটনাই পুলিশের কাছে খুলে বলে।

নিহত লাকীর স্বামী আলামিন জানান, বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই প্রথমে রক্তাক্ত অবস্থায় তার শিশুকন্যা আলিফাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিত্কার করেন। এ সময়  প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং বাড়ির উঠানে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী লাকীকেও পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।