ভারতীয় বোর্ডের সর্বাধিনায়ক

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৯

স্পোর্টস ডেস্ক

লম্বা সময় ভারতীয় জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বলা হয়, ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা অধিনায়ক হলেন ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’। সেই সৌরভ গাঙ্গুলি খেলাধুলা ছেড়ে দেওয়ার পর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি হিসেবেও কাজ করছেন দীর্ঘদিন হলো।

এবার ৪৭ বছর বয়সি সৌরভ গাঙ্গুলি সম্ভবত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি।

গেল রোববার বিসিসিআইয়ের অনানুষ্ঠানিক এক সভা অনুষ্ঠিত হয় ভারতের মুম্বাইয়ে। সেখানেই সৌরভের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলো এক বাক্যে স্বীকার করে নেয় যে, বিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর জন্য সৌরভই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।

বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ। এছাড়া বিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরের ছোটো ভাই অরুণ ধূমাল হচ্ছেন নতুন কোষাধ্যক্ষ। অরুণ বিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি অনুরাগ ঠাকুরের ছোটো ভাই। কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের জয়েশ জর্জকে দেওয়া হচ্ছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ব্রিজেশ প্যাটেলকে বানানো হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নতুন চেয়ারম্যান। মুম্বাইয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বিসিসিআইয়ের সাধারণ সভা।

অধিনায়কত্ব জীবনের মতো করেই বিসিসিআই-এর অধিপতির দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন সৌরভ। তিনি বলেন, ‘গতকাল (রোববার) রাত সাড়ে ১০টার সময় আমি কিছুই জানতাম না। আমার অধিনায়কত্বের শুরুটাও এমন ছিল। ২০০০ সালে যখন আমি দায়িত্ব নেই, তখন চারপাশে অনেকরকম গুঞ্জন ছিল। কঠিন সময়ের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সামর্থ্য যে আমার মধ্যে আছে, এটা ভেবে আমি গর্বিত। ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়। গেল তিন বছর আমাদের জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে, সেটা থেকে সদস্যরা মিলে বের হয়ে এসেছে।’

গতকাল সোমবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন হলেও বোর্ড সভাপতি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ সর্বসম্মতিক্রমেই সৌরভের নাম বিবেচিত হয়ে গেছে। ভারতের হয়ে ৪০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, এখানেও তিনি দলগতভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে চান।

তিনি বলেন, ‘রাজিব শুকলা যে আট জনের দলের ঘোষণা দিলেন তারা বিসিসিআইকে আবারও সঠিক পথে আনার চেষ্টা করে যাবে। যে দল আমি পেয়েছি তাতে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই। আশা করি, আর কয়েকটা মাসের মধ্যেই সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

সভাপতি হিসেবে সৌরভ ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোকে আরো বেশি মজবুত করার ঘোষণা দিলেন। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিবেন বলে দাবি করেন। বললেন, ‘আমার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ পাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এখানে খেলোয়াড়রা কেমন সময় দেয়, আসলে কেমন সময় দেওয়া উচিত—সেসব বলেছি। আমার মতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট হলো মূল ভিত্তি। তাই, সেটা যখন ঠিক থাকবে, তখন তার প্রভাবটা দেশের গোটা ক্রিকেট কাঠামোর ওপর পড়বে।

সৌরভের কথায় একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে, তিনি আইসিসির সঙ্গে বিসিসিআইয়ের অদৃশ্য যুদ্ধটা চালিয়েই যাবেন। বললেন, ‘গেল তিন-চার বছরে আইসিসি আমাদের যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছে, আমরা আসলে তার থেকেও বেশি পাওয়ার দাবি রাখি। আমরা আইসিসির আয়ের ৭০-৭৫ ভাগের জোগান দেই। তাই, এই ব্যাপারটা অবশ্যই আমার গুরুত্বপূর্ণ একটা এজেন্ডা হবে।’