জেএমবির সদস্য দুই প্রকৌশলী গ্রেফতার

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৪

পুলিশের ওপর বোমা হামলা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সম্প্রতি ঢাকায় কয়েক দফায় পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মেহেদী হাসান তামিম ও আব্দুল্ল­াহ আজমির। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সিটিটিসি। গ্রেফতারকৃতরা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাশ করা।

সিটিটিসি ও আদালত সূত্র জানায়, গত রবিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে মেহেদী হাসান তামিম ও আব্দুল্ল­াহ আজমিরকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার বিকালে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুঁইয়া শুনানি শেষে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের তক্কার মোড় এলাকার জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদ উদ্দিন রুমি ও তার ছোটো ভাই জামাল উদ্দিন রফিককে। এদের মধ্যে রফিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছাড়াও আরো চার জনের পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বলেন। সেই চার জনের মধ্যে দুজন হলেন তামিম ও আজমির। তারা দুজনই খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে পাশ করেন। এ দুজনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়া রফিকও কুয়েট থেকে পাশ করেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভোলার একটি দুর্গমচরে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর থেকে নব্য জেএমবির সদস্যরা হামলার সুযোগ খুঁজছিল। ফরিদ উদ্দিন রুমির ছোটো ভাই জামাল উদ্দিন রফিকের নেতৃত্বে একটি সামরিক শাখা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। এরপর তারা রফিকের বাসায় আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লসিভ ডিভাইজড) বোমা তৈরি করে। তাদের তৈরি করা বিশেষ এ বোমায় গত ২৯ এপ্রিলে গুলিস্তানে এবং ৩১ আগস্ট সায়েন্সল্যাব মোড়ে বোমা হামলা চালানো হয়। এছাড়া মালিবাগ, পল্টন ও খামারবাড়ি এলাকায় চালানো হামলায় ব্যবহার করা বোমা তৈরিতেও তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আজমির একটি কোম্পানিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় একটি ওয়াকিটকি ব্যবহার করতেন। সেই ওয়াকিটকি নিয়েই পুলিশের ওপর হামলার সময় ভিডিওতে ছিলেন আজমির। এই গ্রুপের মোট ছয় জন অনলাইনের মাধ্যমে র্যাডিকালাইসড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়ায়। জঙ্গিবাদে জড়ানোর শুরু থেকেই তারা আইএসের সঙ্গে কানেকটেড হওয়ার চেষ্টা করছিল। আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল পুলিশের ওপর হামলার উদ্দেশ্য।

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, গ্রেফতারকৃতরা নতুন ধারার জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তাদের পরিকল্পনাতেই সম্প্রতি ঢাকার কয়েকটি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়। সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম আরো জানান, জেএমবির সামরিক শাখার পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন (রফিক, তামিম ও আজমির) এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম জানান, গত সেপ্টেম্বরে পুলিশের ওপর আরো একটি হামলার পরিকল্পনা করেছিল তারা। এজন্য তারা নারায়ণগঞ্জে দুটি আইইডি বোমা প্রস্তুত করছিল। এর একটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছিল। আরেকটি আংশিক। এরই মধ্যে তারা গ্রেফতার হওয়ায় হামলার পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়।