বার্ষিক সম্মেলনে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির (এসএসএনপি) পরিধি বৃদ্ধি পেলেও দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচি না থাকায় তারা এসব কর্মসূচির সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। চলমান ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কোথাও কোথাও পেলেও অন্যান্য কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ প্রায় নেই। গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবস্থান : নতুন নীতি কাঠামোর প্রস্তাবনা’ শীর্ষক বার্ষিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বিশেষ দক্ষতা বিবেচনা করে স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিশেষ ধরনের কর্মসূচি চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ ও ‘পিকেএসএফ’-এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মাদ নুরুল কবির। সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এসএসপিএস কার্যক্রমের সামাজিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মাদ খালেদ হাসান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রায়না আহমেদ প্রমুখ।
দিনাজপুর ও জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ৯টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে গবেষণার আলোকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সমতলের নৃগোষ্ঠীর জন্য করণীয় বিষয়ে সুপারিশ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আসিফ শাহান।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, এসএসএনপিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি স্থায়িত্বশীল করতে চাইলে এর প্রকল্পগুলোকে কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করতে হবে। সব কর্মসূচির কেন্দ্রে রাখতে হবে মানুষকে, তাদের চাহিদাকে। গাজী মোহাম্মাদ নুরুল কবির বলেন, এসএসএনপির পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সহায়তা প্রদান কার্যক্রম ক্রমশ ডিজিটালাইজ হচ্ছে, ফলে দুর্নীতির আশঙ্কা হ্রাস পাচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সব মানুষের অন্তর্ভুক্তি আমাদের সার্বিক উদ্দেশ্য।
ড. এম এম আকাশ বলেন, এসএসএনপির মোট বাজেটে ০.৫% উপকারভোগীর জন্য যাচ্ছে ২৪% অর্থ, যেটাকে যৌক্তিকভাবে বিন্যস্ত করা জরুরি। মোহাম্মাদ খালেদ হাসান বলেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের ভিত্তিই হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিকরণ’। কিন্তু কতজন মানুষ পিছিয়ে রয়েছেন সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। সরকার একক নিবন্ধনের যে প্রক্রিয়া বা ডাটাবেইজ শুরু করেছে তা সম্পন্ন হলে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারব।
সম্মেলন সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী। আলোচনায় আরো অংশ নেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি এস্যুরেন্স পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ।
