সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে তুহিন নামের পাঁচ বছরের এক ঘুমন্ত শিশুকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়ির অদূরে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা তুহিনের পেটের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত দুটি ছুরি ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। দুর্বৃত্তরা শিশুটির কান ও লিঙ্গ কেটে ফেলে। তুহিনের এমন হূদয়বিদারক মৃত্যুতে মূর্ছা যান তার মা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবা, চার চাচাসহ সাত জনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাত জনের মধ্যে দুই-তিন জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
রবিবার রাতের খাবার খেয়ে তুহিনের পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। তুহিন ঘুমিয়ে ছিল বাবার সঙ্গে। মা তুহিনের ১৫ দিন বয়সি ছোটো বোনকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন অন্য রুমে। রাত ৩টার দিকে তুহিনের চাচাতো বোন সাবিনা বেগম ঘরের দরজা খোলা দেখে চিত্কার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা জেগে উঠে দেখে তুহিন ঘরে নেই। খোঁজাখুঁজির পর বাড়ি থেকে কিছু দূরে মসজিদের পাশে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির পেটে দুটি ছুরি গাঁথা ছিল। ছুরি দুটিতে একই গ্রামের সুলেমান ও সালাতুল নামে দুই জনের নাম খোদাই করা ছিল। গ্রামবাসীর ভাষ্য, সুলেমান ও সালাতুলের সঙ্গে তুহিনের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় দিরাই থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘তুহিনের পরিবারের সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিলাম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দুই-তিন জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যে দুই-তিন জন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্রতিহিংসাবশত হতে পারে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হতে পারে, আবার মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে; তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না।’
মিজানুর রহমান আরো বলেন, নিহতের বাবাসহ পরিবারের কয়েক জন সদস্য বিভিন্ন মামলার আসামি। এলাকায় তাদের একাধিক প্রতিপক্ষ রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। তবে কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তা এড়িয়ে যান পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সবাইকে আটক দেখানো হচ্ছে না। পুরোপুরি জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল সোমবার বিকালে তুহিনের বাবা আব্দুল বাসির, চাচা আব্দুল মসব্বির, নাসির উদ্দিন, চাচি খায়রুন নেছা, চাচাতো বোন তানিয়া, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলামসহ সাত জনকে পুলিশ থানায় নিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সিআইডি ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তুহিনের বাবা বাসির জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার ভাতিজির ঘুম ভাঙলে দেখতে পান দরজা খোলা, তুহিন ঘরে নেই। খোঁজখুঁজি করে বাড়ির সামান্য দূরে নতুন মসজিদের পাশে গাছের সঙ্গে তুহিনের লাশ ঝুলতে দেখা যায়। তিনি জানান, বর্তমানে তাদের কারো সঙ্গে বিরোধ নেই।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দিরাই থানার ওসি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাতকদের ধরতে আমরা কাজ শুরু করেছি।’
