বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সীমানা বিরোধ দূর করতে ঝুলে থাকা মুহুরিরচর পুনরায় যৌথ জরিপে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে ভারত ফেনীর মুহুরিরচর সীমনা নির্ধারণে পুনরায় জরিপের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পূর্বের শেষ হওয়া জরিপ ধরে সীমানা বিরোধের মীমাংসা চাইছিল। অবশেষে পুনরায় যৌথ জরিপে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সীমানা জটিলতার অন্য সব সমস্যার সমাধান হলেও মুহুরিরচরের সীমানা নির্ধারণ আটকে ছিল। এটির মীমাংসা হলে বাংলাদেশ-ভারত সীমানা-সংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান হয়ে যাবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবেরা এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ বাতিঘর আইন, ২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
যেসব দেশ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হবে, তারাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করবে। এমন বাধ্যবাধকতা রেখে ‘তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহূত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক জাতীয় নীতি’র খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ নীতির মাধ্যমে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হবে। পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র মাথায় রেখেই আন্তর্জাতিক মানের এই নীতিমালা করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়তে না পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের আদলে তৈরি করা খসড়া নীতিমালায় পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ যুক্তিসংগতভাবে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে যেহেতু রাশিয়া পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করছে, সেহেতু রাশিয়াই নিজ দেশে নিয়ে পারমাণবিক বর্জ্য ধ্বংস করবে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা জাহাজ আগমন ও প্রত্যাগমনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাতিঘর মাশুল দেওয়ার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ বাতিঘর আইন’ নামে একটি নতুন আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে। এ আইনে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে বাতিঘরের মাশুল দিতে বাধ্য করা হয়েছে। যেসব কোম্পানি মাশুল দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী পরিমাণ মাশুল কোন পর্যায়ে গুনতে হবে, তা গেজেটে বলা থাকবে।
‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল’ আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সেখানে গবেষণা, প্রকৌশল-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আমদানি বাণিজ্যিকীকরণ, আত্তীকরণ, অভিযোজনের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৮৭ সালের একটি পুরোনো আইন আছে, ‘দি লাইটহাউজ অ্যাক্ট, ১৯৮৭’। এটাকে আপডেট করে মোটামুটি একই রকমের আইন করা হয়েছে। এখানে বড়ো কোনো পরিবর্তন নেই। শুধু ১৯৮৭ সালের প্রেক্ষাপটে যে অংশটুকু ২০১৯-এ এসে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে, সেই অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বন্দর বাতিঘর’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে। যেমন চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি করে বাতিঘর থাকবে। ‘বাতিঘর অঞ্চল’ বলতে বোঝাচ্ছে সীমানাভুক্ত বাতিঘর এলাকা।
এদিকে বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী নারী নেতৃত্বের ১০০ জনের তালিকায় স্থান পাওয়ায় এবং ভাগ্নি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক লন্ডনে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় তাদেরকেও মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
