পেয়ারা চাষে অল্প সময়ে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন মানিকগঞ্জের কুরমান আলী। সদর উপজেলার নবগ্রামে ২০০ শতাংশ জমিতে কাজি পেয়ারা চাষ করছেন কুরমান আলী। নবগ্রামের বারইল গ্রামের কালিগঙ্গা নদীর ধার ঘেঁষে তিনি গড়ে তুলেছেন তার বিশাল পেয়ারা বাগান। ২০১৫ সালে কাজি পেয়ারার বীজ তলা তৈরি করেন তিনি এবং পরবর্তীতে সেই বীজ বাগানে বপন করা হয়। প্রথমে ৭০ শতাংশ জমিতে পেয়ারা বাগান করেন তিনি। পরে আরো ১৩০ শতাংশ জমিতে পেয়ারা চাষ করেন।
কুরমান আলী জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেয়ারা বাগানে খরচ কম এবং লাভও বেশি। তবে প্রথম বছরে ফল কম ধরে বলে তেমন লাভ হয় না। দু-তিন বছর বয়সি গাছ থেকে পেয়ারা পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, সংসার চালাতে বাগান করার আগে আমি অনেক কষ্ট করেছি। আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, কামরাঙ্গা ফল কিনে ঢাকায় ও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে বিক্রয় করতাম। পরবর্তীতে নবগ্রামের বারইলে ৫ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে পেয়ারা বাগান করেছি। পেয়ারা বাগান থেকে টাকা আয় করে নতুন করে আরো কয়েকটি পেয়ারা বাগান করছি। পেয়ারা বাগানে কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা। গর্বিত কুরমান আলী বলেন, ‘ঢাকায় পাইকারি দরে পেয়ারা বিক্রি করে আমার বেশ ভালই আয় হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাসহ সাংসারিক বিভিন্ন খরচ মিটিয়ে আমি কিছু টাকা জমাতেও পারছি যা আমি আমার পেয়ারা বাগানে বিনিয়োগ করছি। পেয়ারা চাষ নিয়ে যে আমার অনেক স্বপ্ন।’
কুরমান আলীর সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক কৃষকই পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে পেয়ারা চাষে কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কুরমান আলীকে। অনেক সময় পেয়ারায় পোকা ধরে। তাছাড়া গাছ মরে যাওয়াসহ আরো কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে তেমন কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। সার, কীটনাশক, কৃষি বিষয়ক পরামর্শ ও সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ পেলে পেয়ারা চাষে আরো সাফল্য অর্জন সম্ভব।
পেয়ারা বাগানের শ্রমিক করিম মিয়া জানান, প্রথমে জমি তৈরি করে চারাগুলো রোপণ করার পর এক বছরের মাথায় সামান্য কিছু ফল পাওয়া গিয়েছিল। ২/৩ বছর পর পুরোপুরিভাবে ফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন আমাদের বাগানের পেয়ারা ঢাকার মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীতে বিক্রয় করি। প্রতি কেজি পেয়ারা বিক্রি হয় ৫০/৬০ টাকায়। তিনি বলেন এক একটা পেয়ারার ওজন প্রায় ১ কেজি হয়।
নবগ্রাম ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, কুরমান আলীসহ এই অঞ্চলের পেয়ারা চাষিরা যাতে আরো সাফল্য পেতে পারেন সে জন্য তাদেরকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা করব।
