ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ৫৫ বছর পূর্তি

‘শ্রমিকের অধিকার বুঝিয়ে দিতে মালিকদের বাধ্য করা হবে’

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:১৬

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রবিবার দুপুরে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার বুঝিয়ে দিতে মালিকদের বাধ্য করা হবে। 

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান-এনডিসি, সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, কোনো মালিক যদি আপনাদের অধিকার না দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কাগজকলম চালালে মালিকের জেল জরিমানা হয়। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে ট্যানারির প্রতিটি কারখানা পরিদর্শন করে শ্রমিকের অধিকার আদায় করে দিতে মালিককে বাধ্য করার নির্দেশ দেন।

শ্রমিকের হাতে উন্নয়নের চাবিকাঠি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, স্থায়ী শ্রমিক ছাঁটাই করতে হলে তাদের বেতনভাতাসহ সকল পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। খালি হাতে কোনো শ্রমিককে বাড়িতে পাঠানো যাবে না। কোনো শ্রমিক যদি মালিকের অন্যায় আচরণ ও অমর্যাদার শিকার হন তাহলে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করার পাশাপাশি আমাকে একটা কপি দেবেন, আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও এখনো সিটিপি সম্পূর্ণরূপে কাজ না করায় এখানকার অপরিশোধিত পানি নদীতে গিয়ে ধলেশ্বরীকে দূষিত করছে। অবিলম্বে নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে ট্যানারির কাজগুলো সম্পন্ন করে ধলেশ্বরী নদীকে বাঁচান। নইলে হাজারীবাগের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে চামড়ার গুণগতমান রক্ষা, পরিবেশের উন্নয়ন ও সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের বিকল্প  নেই। তাই এই শিল্পের স্বার্থেই পুরোনো ও দক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং সকল প্রকার শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। বক্তারা অবিলম্বে ট্যানারি শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি, আবাসন ব্যবস্থা, হাসপাতাল, ক্যান্টিন, স্কুল ও শোভন কাজসহ সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের দাবি বাস্তবায়নের ব্যাপারে মালিকদের আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিকদের আস্থায় নিয়ে চামড়াশিল্পের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তারা।