কিশোর পাপ্পুকে (১৫) হত্যার পর তার লাশ বস্তায় ভরে পিকআপে করে নিয়ে পদ্মায় ফেলে আসে রাজু নামে যুবক। পাপ্পু ছিল রাজুর সিনিয়র বন্ধু। শুধুমাত্র পাপ্পুর বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা আদায়ের জন্য রাজু তাকে হত্যা করে। গতকাল সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রাজু।
৩০১ নম্বর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসায় মায়ের সঙ্গে থাকতো পাপ্পু। গত ৩ অক্টোবর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের জিডির প্রেক্ষিতে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। রাজু জানিয়েছে, এর একদিন পর প্রতিবেশী পাভেলের মোবাইলে পাপ্পুর চোখ বাঁধা অবস্থায় একটি ছবি পাঠিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া সাধারণ ডায়েরিটি আমলে নিয়ে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ৮ অক্টোবর পাপ্পুর মা যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপহরণ মামলা (নং-৩১) দায়ের করেন। ডিবি পুলিশ অনুসন্ধান করে গত রবিবার যাত্রাবাড়ীর ধলপুর থেকে রাজুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
রাজু জানায়, ঘটনার দিন সে কৌশলে পাপ্পুকে পূর্ব ধোলাইপাড় ৮৫ নং কবিরাজবাগ রোডের মোবারক চৌধুরী রানার ভাড়া করা একটি গোডাউনে নিয়ে যায়। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকে কিনে রাখা মদ খায় একসঙ্গে। এর এক পর্যায়ে সে ঝগড়ার সৃষ্টি করে পাপ্পুকে গলাটিপে হত্যা করে। পরবর্তীতে লাশটি গুম করার জন্য রাতেই পাশের একটি ভাঙারি দোকান থেকে ৫০ কেজি পুরাতন বই কিনে। পরে যাত্রাবাড়ীর ফল মার্কেট থেকে দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা কিনে আনে। ভাঙারির দোকান থেকে পুরাতন বই ও বস্তা নিয়ে সেই গোডাউনে যায়। সেখানে প্রথমে সে পাপ্পুর লাশ হাত-পা বেঁধে পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে বস্তায় ভরে। এসময় অপহরণের গল্প ফাঁদার বিষয়টি মাথায় আসে তার। সেভাবে বেঁধে পাপ্পুর ছবিও তোলে। পরে বস্তার ভেতরে লাশের চারপাশে বই ঢুকিয়ে বস্তার মুখ বেঁধে রাখে। আরেক বস্তায় শুধু বই ঢুকিয়ে গোডাউনে রাখে। পরদিন এক সহযোগীর মাধ্যমে ভাঙারির মাল নেওয়ার জন্য একটি পিক আপ ভাড়া করে। সকাল সোয়া ১১টার দিকে পিক আপে লাশের বস্তা ও বইয়ের বস্তা তুলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ট্রলারঘাটে যায়। সেখানে গিয়ে পিক আপ থেকে লাশের বস্তাসহ দুটি বস্তা নামায়। পরবর্তীতে একটি ট্রলার ভাড়া করে বস্তাগুলো ট্রলারে তুলে পদ্মা রিসোর্ট এলাকার পদ্মার শাখা নদীর তীরে বস্তা দুটি নামিয়ে পিক আপের চালককে ঘাটে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেই সে বস্তাগুলো পানিতে ফেলে দেয়।
