তিন বিভাগেই উন্নতি চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

ব্যাটিংয়ে ভালো ভিত পাওয়ার পরও স্কোরটা বড় করা যায়নি। তিন হাফ সেঞ্চুরি থাকলেও ২৫৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ দরকার ছিল ২৮০’র বেশি রান। শেষ দিকে সময়ের দাবি মিটিয়ে রান তুলতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। আবার তিন হাফ সেঞ্চুরিয়ান ইনিংস বড় করতে পারেননি। বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়ে আউট হয়েছেন।

ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের ক্যাচ মিসগুলো ছিল দৃষ্টিকটু পর্যায়ের। দ্বাদশ ফিল্ডার নাজমুল ইসলাম অপুই ক্যাচ ফেলেছেন দুটি। ইমরুল কায়েসের একটিসহ মোট তিনটি ক্যাচ মিস হয়েছে। তা ছাড়া মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত কয়েকটি রান গুনতে হয়েছে। যা কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

বোলাররা বরাবরের মতোই ইনিংসের শেষ দিকে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। মূল ভরসা রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা পারেননি শেই হোপ, কেমু পলদের আটকে রাখতে। চার উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মিরপুরে গত মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিন বিভাগেই বিশৃঙ্খল ছিল বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স। আগামীকাল সিলেটে তৃতীয় ওয়ানডেতে হবে সিরিজের ফয়সালা। আর তাই সিলেটে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে তিন বিভাগেই উন্নতি চায় বাংলাদেশ। সিরিজ জিততে মরিয়া টাইগাররা শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছে শেষ ম্যাচে। গতকাল এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় দলের তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

তৃতীয় ম্যাচ খেলতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে গতকাল বিকালের ফ্লাইটে সিলেট গিয়েছে বাংলাদেশ দল। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছাড়া দলের সব ক্রিকেটারই এক ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছেছেন। আজ সকালের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে উড়ে যাবেন সাকিব।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি-ইউনিসেফের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতির জায়গা নিয়ে মিরাজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নির্দিষ্ট করে বললে আমাদের পেস বোলারদের একটু, আমরা শেষ কয়েক ম্যাচে স্লগ ওভারে ভালো বল করিনি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ওইসব জায়গায় আমাদের উন্নতি করলে ভালো হবে। আর অবশ্যই ব্যাটসম্যানরাও ভালো করছে। এটা শুধু চালিয়ে যেতে হবে। আর ওদের ব্যাটসম্যান শেই হোপ অসাধারণ খেলেছে। ভালো খেলেছে কারণ ও কোনো সুযোগ দেয়নি। ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে সেজন্য ওরা জিতেছে। কিন্তু আমাদের নিজেদের ঘাটতি ছিল, সেটা উন্নতি করার চেষ্টা করবো।’

১৮৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েছিল উইন্ডিজরা। তারপর কেমু পলের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন শেই হোপ। কেমু পল খেলেন অপরাজিত ১৮ রানের ইনিংস। হোপ অপরাজিত ১৪৬ রান করেন।

অথচ এ ১৮ রানের ইনিংসে দুই বার কেম পলের তোলা ক্যাচ ফেলেছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু। প্রথমবার ডিপ মিড উইকেটে, পরের বার ডিপ স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ ফেলেন তিনি। মিরাজ বলছেন, ক্যাচ মিস খেলার অংশ। এ সব ভুল শুধরে আগামীকাল দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন তিনি।

গতকাল মিরাজ বলেছেন, ‘আসলে ক্যাচ মিস হতে পারে এটা ক্রিকেট খেলার অংশ। আমরা কিন্তু ভালো ভালো ক্যাচও ধরেছি। যেটা বললাম ক্যাচ মিস হতেই পারে। তারপরও অনেক সময় বল এদিক ওদিক হয়, ওইটাই ভুল হয়ে যায়। আশা করি যে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’