আগেও সেঞ্চুরি করেছেন; আগেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শাই হোপ যেন নতুন এক উচ্চতায় উঠে গেলেন।
ইনিংস শুরু করতে নেমে ঠেকিয়েছেন বাংলাদেশের তুুমুল আক্রমণ, এরপর আস্তে আস্তে ক্যারিবীয় ইনিংসটা ধরে রেখেছেন এবং শেষ দিকে এসে টেইল এন্ডারদের নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে, হিসেব করে দলকে অসামান্য এক জয় এনে দিয়েছেন। এই জয়ের পর তার হাওয়াতে ভাসারই কথা। কিন্তু হোপ পরিষ্কার বলে দিলেন, এখনই তিনি হাওয়ায় ভাসছেন না। কারণ, এখনও লড়াইটা শেষ হয়নি।
নিজেদের সিরিজ জয়ের দিকে ইঙ্গিত করে হোপ বলছিলেন, ‘নাহ, এখনই হাওয়ায় উড়ছি না। সিরিজ তো এখনও ১-১। তবে এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।’
হোপ জানেন, এখন তাদের কী করতে হবে। তিনি শেষ ম্যাচটায় যাই ঘটুক না কেন, দলের জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে রাজী নন। বলছিলেন, ‘আশেপাশে যাই ঘটুুক না কেন, আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জিততে এসেছি। আমাদের ওই জয়ের সীমানাটা পার করা এখন স্রেফ সময়ের ব্যাপার।’
শেষ ম্যাচে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার ব্যাপারে অবশ্য খুব আশাবাদী হোপ। তিনি বলছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখানে স্রেফ বেড়াতে আসেনি। তারা এখানে জিততে এসেছে। আর সিলেটে শেষ ম্যাচে সেটাই করতে চায় তারা, ‘অবশ্যই আমরা এখানে ম্যাচ জিততে এসেছি। আমরা এখানে লড়াই করতে এসেছি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, আমরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজটা শেষ করতে পারছি।’
তবে সিরিজ এখনও নিশ্চিত না হলেও উদযাপন করায় কোনো আপত্তি দেখছেন না এই তরুণ ব্যাটসম্যান। উপমহাদেশে লম্বা সফরে এই একটা জয় এলো। এটাকে তারা উদযাপন করেই স্মরণীয় করে রাখার পক্ষে, ‘এশিয়াতে এটা আমাদের লম্বা একটা সফর চলছে। এই পাশে এসে খেলাটা অসাধারণ একটা ব্যাপার। ছেলেরা সবাই খুব পরিশ্রম করছে। এখন সবাই খুব খুশি যে, অবশেষে আমরা একটা জয় পেয়েছি। আমাদের অবশ্যই আরও বেশি উদযাপন করা উচিত। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা খুব বেশি উদযাপনের উপলক্ষ পাই না।’
দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কৌশলটা মনে করতে গিয়ে হোপ বলছিলেন, এই ম্যাচে স্পিনের বিপক্ষে তাদের পরিকল্পনাটা কাজে লেগেছে, ‘আমাদেরকে এখানে যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের মানিয়ে নিতে হয়েছে। আমরা জানতাম যে, প্রথম ১০ ওভারে তারা আমাদের দিকে স্পিন আক্রমণ ছুড়ে দেবে। আমরাও ভিন্ন একটা পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম। আর সেটা এই দফায় কাজে লেগেছে।’
