বন্ধুত্বের টানে আড্ডা জমে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:০৯

  মো. জাহানুর ইসলাম

 

বন্ধু মানে আর কিছু নয় প্রেম ভালোবাসা, হূদয়ছোঁয়া সম্পর্ক জীবন মরণ বাঁচা। স্কুল ও কলেজের বন্ধুত্ব আসলে এমনই হয়, যা চাইলেও কখনো ভুলে যাওয়া যায় না। স্কুলকলেজের বন্ধুদের মেলবন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধ যে কতটা দৃঢ় স্বচক্ষে না দেখলে তা উপলব্ধি করা একটু কঠিন। সেই শৈশব-কৈশোরে স্কুলকলেজে পড়তে পড়তে যাদের সঙ্গে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, তারাই যে দখল করে থাকে মনের সবটা এলাকা, সে কথা এখন আমাদের চাইতে কে আর বেশি জানে?’। এমন বন্ধুত্ব কেমনে ভুলতে পারি! সত্যিই তাই, ২০০৯ ও ২০১১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত “দি ইনভিন্সিবল ৯/১১” এর বন্ধুদের এক মিলনমেলায় আবারও তা প্রমাণ মেলে। একদিনের পরিকল্পনায় ১১ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে পারভেজ, ওমর ফারুক, নাজিম খান, তন্নি, নাজমুল হক, আসমা, দিদার, শাহজাহান, আতাউর, বৃষ্টি, হ্যাপি, আশিক, জাহিদুলসহ প্রায় ৬০/৬৫ জনের উপস্থিতি জানান দেয় আমাদের বন্ধুত্বের শিকড়ের গভীরতা আসলে কতটুকু। বন্ধুত্বের মোজেজা আসলে এখানেই। বন্ধুত্বের দৃঢ়তা আমার কাছে ইস্পাতের চেয়ে বেশি কঠিন বলেই মনে হয়। সম্পর্ক গভীর হলে একজন অপরের ডাকে সাড়া দিবে এটাই তো স্বাভাবিক। আর হয়েছেও তাই। ব্যক্তিজীবনে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক বন্ধুত্বটা ঠিকই থাকে, প্রাণের বন্ধু কখনোই যায় না মুছে।

ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হাতিরঝিলে আমাদের এবারের আড্ডা জমে ওঠে। সুখ-দুঃখের গল্প শুরু করে, হাসি-ঠাট্টা, বাদ যায়নি ব্যক্তিজীবনের স্মৃতিচারণাও। আড্ডা মানে তো শুধু আড্ডা নয়, আড্ডায় থাকে স্বপ্ন দেখা, থাকে ভবিষ্যতের ছক আঁকা। আমাদের আড্ডা থেকেও অনেকের কাছ থেকে উঠে আসে নানান স্বপ্ন, নানান ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা। তখন একটা আশঙ্কাও দেখা দেয় একেকজনের স্বপ্ন পরিকল্পনা তো একেক ধরনের তাহলে আমাদের বন্ধুত্বের কী হবে! আমাদের কারো কারো লেখাপড়া এখনো শেষ হয়নি, কেউ বা শেষ করেছি সদ্যই, কেউ কেউ আবার ঢুকে পড়েছি চাকরি জীবনেও। ‘ভবিষ্যতে আমরা কেউ হয়তো বড়ো ডাক্তার হব, শিক্ষক হব, কেউবা হব প্রকৌশলী, ব্যবসায়ীও হব কেউ কেউ। তাতে কী? ‘বন্ধুত্বের তো আর পদপদবি হয় না। বন্ধুত্ব আজীবনের।’ সর্বস্তরে বন্ধুত্বের অবাধ বিচরণ, মুক্ত বিহঙ্গের মতো। ‘বীক্ষ্যমাণ’ বিশেষণে বিশেষণীয় তো আর বন্ধুত্ব হয় না। রাত ৮টায় শেষ হয় আমাদের ঘোরাঘুরি আর আড্ডাবাজি। সবাই নিজ নিজ বাসায় ফিরে যেতে থাকি আর অস্ফুটস্বরে মনে মনে বলি আহ! আর একটু বেশি সময় ধরে আড্ডাটা চললে মন্দ হতো না! সময় যে কেন এতো তাড়াতাড়ি চলে যায়?