স্পোর্টস রিপোর্টার
পার্থের উইকেট মানেই সেখানে গতি আর বাউন্সের মিশেল থাকে। তবে এবার যে ওয়াকায় নয়, খেলা হবে সদ্যনির্মিত পার্থ স্টেডিয়ামে। আর এখানে ব্যবহূত হয়েছে ‘ড্রপ ইন’ উইকেট। মানে বাইরে থেকে পিচ বানিয়ে স্টেডিয়ামের মাঝে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার কদিন আগেই এই উইকেটে শেফিল্ড শিল্ডের একটা ম্যাচ দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাটার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানেও ওয়াকার মতো গতি আর বাউন্স থাকবে।’ ফলে, বলে না না দিলেও চলে যে এই মাঠের অভিষেক টেস্টে পেসাররাই তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন।
পেস সহায়ক উইকেট বানানোর ক্ষেত্রে পার্থের এই নতুন স্টেডিয়াম কতটা সফল হলো, কাল শুক্রবার থেকে শুরু টেস্টই বলে দেবে। ভারত যেমন ২-০ করার লক্ষ্য নিয়ে নামবে, অস্ট্রেলিয়ার তেমনি থাকছে ফিরে আসার চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার কোচ ল্যাঙ্গার যতই হুঙ্কার দিক না কেন, ভারত ভরসা রাখছে নিজেদের পেস বোলিং সামর্থ্যের ওপরই। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন টেস্টের সিরিজে ৬০টি উইকেটই নিতে পেরেছিল ভারত। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজে মোট ৮৫টি উইকেট নেয় ভারত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টেও ২০টি উইকেটই নিজেদের ঝুলিতে ভরতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় বোলাররা। এই নিয়ে ভারতের বোলিং কোচ ভারত অরুণ বলেন, ‘আমরা যেটা দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ডে করেছি এখন সেটা অস্ট্রেলিয়াতে করছি। মানুন আর নাই মানুন এখন আমাদের পেস আক্রমণটা বিশ্ব মানের। ওরা খুব দারুণ করছে সাম্প্রতিক সময়ে। এখানে আরো একটু যোগ করা দরকার যে, আমাদের পেস আক্রমণ কেবল এক বা দুজন বোলারের ওপর নির্ভরশীল নয়। আমাদের এখানে এক ঝাঁক ক্রিকেটার আছেন যারা এই দায়িত্বটা নিতে পারেন। সবাই মিলে দারুণ কাজ করছেন। ভাল করাটা একটা অভ্যাসের মতো। সেই অভ্যাসটা আমরা রপ্ত করতে পেরেছি। আর আমরা যেভাবে এই ভাল করার ধারাবাহিকতাটা বজায় রাখতে পেরেছি, সেটা সত্যিই উত্সাহজনক।’ ভারত অরুণ জানালেন, উইকেটের ধরনটা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি ভারত। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো উইকেট দেখিনি। দেখুন, কন্ডিশনে আমাদের কোনো হাত নেই। ফলে, আমাদের কাছে এটা ভিন্ন একটা জায়গা। আমাদের বোলাররা দেশের মাটিতে উইকেটের সহায়তা যেভাবে নিতে অভ্যস্ত সেটা আমরা এখানে করতে পারবো না। আমরা শুধু যেটা করতে পারি সেটা হলো পরিশ্রম। আমি বলতে পারি, এই কাজটা আমরা খুব সততার সাথেই করতে পারছি। কন্ডিশনের খুব বেশি সহায়তা ছাড়াই আমাদের বোলাররা উইকেট পাচ্ছে। ফলে, সব মিলিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
পেসারদের সাথে অরুণ আলাদা করে বললেন রবীচন্দ্রন অশ্বিনের কথা। অ্যাডিলেড টেস্টে তিনি ছয়টা উইকেট নেওয়ায় পেসারদের ওপর চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ভারত অরুণ বললেন, ‘স্পিনাররা যত অভিজ্ঞ হন, তত তাদের বোলিং করতে দেখার নেশাটা বাড়ে। অশ্বিন হল তেমন একজন বোলার। আগের ম্যাচে পুরোটা সময় ও সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। ৯০ ওভারে ১৪৭ রান দিয়ে ছয় উইকেট পাওয়াটা সহজ ব্যাপার নয়। এর চেয়ে বেশি কিছু তো চাওয়ার নেই। ও নিজের কাজটা ভাল জানে!’
