শেখ রাসেল ২
চট্ট. আবাহনী ০
স্পোর্টস রিপোর্টার
শেখ রাসেল স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে। ১৯ ডিসেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে শেখ রাসেলের প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
চট্টগ্রাম আবাহনী এবং শেখ রাসেল ফেডারেশন কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালেও মুখোমুখি হয়। সেখানেও কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর চট্টগ্রাম আবাহনী হেরেছিল কোচ সাইফুল বারী টিটুর শেখ রাসেলের কাছে। এবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হলেও প্রতিশোধ নিতে পারেনি চট্টগ্রাম আবাহনী।
দুই দলের দুই কোচ ফুটবলের খুব কাছের মানুষ। মিন্টুর চেয়ে টিটু বড় হলেও অবসরে সব সময় একই সঙ্গে তাদের উঠ-বস। ফুটবল নিয়েই তাদের কাজ। মাথাটা সব সময় ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মন-মানসিকতায় অনেকটা মিল পাওয়া যায়। কাছের মানুষ হলেও মাঠের লড়াইয়ে টিটু ও মিন্টুর অবস্থান দুই প্রান্তে। ফুটবল শিক্ষকের ভূমিকায় কোচ মন্ত্র পড়িয়ে দেন, মাঠে খেলোয়াড়রা লড়াই করেন। ডাগআউটে টিটু-মিন্টুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হয়। মাঠের বাইরে ডাগআউটেও দর্শকের সজাগ চোখ থাকে। লড়াই হয় দুই কোচের। কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে জিতেছে টিটুর শেখ রাসেল।
আগের দিন ব্রাদার্স এবং আরামবাগের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালটা যেভাবে উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছিল, কালকের কোয়ার্টার ফাইনালে তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। আরামবাগ-ব্রাদার্স লড়াইয়ে দুই লালকার্ড। ৯০ মিনিটে ৩-৩, টাইব্রেকারেও ৩-৩। সাডেন ডেথে ভাগ্য নির্ধারণ হয়। কত উপভোগ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছিল সেই ম্যাচ। কিন্তু কাল যখন আরো বড় দুই দলের লড়াই হলো, সেখানে উত্তেজনা দেখা গেল না। দুই দল খেলল। কিন্তু মন রাঙ্গিয়ে দেওয়ার মতো বেশি কিছু ঘটল না।
শেখ রাসেল প্রথমেই দুই গোল করে কাজের কাজটি করে ফেলে। ৩৫ মিনিটে বিপলুর ঠেলে দেওয়া বলে বিশ্বনাথ ঘোষ ক্রস ফেলেন। উজবেক ষ্ট্রাইকার আজিজভ আলীসার নিচু শটে গোলে পরিণত করেন ১-০। গোলটা হজমের আগেই আবার আঘাত হানলো শেখ রাসেল। ৩৮ মিনিটে নাইজেরিয়ান রাফায়েল গোল করে চট্টগ্রাম আবাহনীকে মহাবিপদে ফেলে দেন ২-০। তারপরও চট্টগ্রাম আবাহনীর সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচে ফেরার। চতুর কোচ টিটু সেটা বুঝেই হয়ত রক্ষণভাগে পাহারাদার বাড়িয়ে দেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার আরিফুল ইসলামকে আরো সামনে রাখেন। তারপরও টেনশনে ঘামছিলেন কোচ টিটু। সারাক্ষণ ডাগআউটে লম্ফঝম্ফ করে অ্যাথলেটিক টার্ফ কাঁপিয়েছেন। টিটুর উত্তেজনা দেখে মনে হচ্ছিল গোলগুলো শোধ হয়ে যাবে।
খেলা শেষে টিটু এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন,‘আমি কি নড়াচড়া করতে পারব না ? দেখুন প্রথমার্ধে দুই গোল হয়ে যাওয়া মানে প্রতিপক্ষ দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমার খেলোয়াড়দের মনোযোগের মধ্যে রাখতেই তাড়া দেওয়া।’
আজ তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ঃ আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, ৪টা ৩০।
