নজরদারিতে পিপল্স লিজিংয়ের অপকর্মের হোতারা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৩৬

আমানতকারীদের সঞ্চয় ফেরতের সময় বলতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বন্ধ হয়ে যাওয়া বহুল আলোচিত পিপল্স লিজিংয়ের অপকর্মের হোতারা নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার পিপল্স লিজিংয়ের আমানতকারী কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর। তবে আমানতকারীদের অর্থ কবে নাগাদ ফেরত পাওয়া যাবে—সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেন নি। এ সময় আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ও হতাশার কথা জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকে ঐ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে এস কে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম, অবসায়ক আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও আমানতকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রশান্ত কুমার দাস, রানা ঘোষ, কামার আহম্মেদ ও বেগম সামিয়া বিনতে মাহবুব উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকসূত্র জানায়, পিপল্স লিজিংকে অবসায়ন না করে অন্য কোনোভাবে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়ার উপায় ছিল না বলে গভর্নর জানান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ঐ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণ থেকে অবসায়কের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১ কোটি টাকা জমা পড়েছে। আরো কিছু অর্থ জমা হওয়ার আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আমানতকারীদের জমা টাকা আনুপাতিক হারে ফেরত প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে সময় লাগলেও আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

বৈঠকে আমানতকারী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, পিপল্স লিজিংয়ে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদেও কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখে এখন তা ফেরত না পেয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন। কোথায় গেলে এই টাকা ফেরত পাবেন—তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। এই টাকা থেকে অনেক অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সংসারের ব্যয় নির্বাহ হতো। সন্তানের  লেখাপড়া, চিকিত্সা ব্যয় নির্বাহ হতো। আজ তা বন্ধ। তিনি বলেন, আমরা জানি না, জীবদ্দশায় আমাদের সঞ্চয় ফেরত পাব কি না। ইতিমধ্যে একজন আমানতকারী অর্থ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ক্যানসার আক্রান্ত এক আমানতকারী চিকিত্সা করাতে পারছেন না।