তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৪২

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির দুটি মন্ত্রণালয় ও তিন জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এর পাশাপাশি আশু যুদ্ধবিরতির দাবি জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে ফোন করেছিলেন বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন। ‘যত দ্রুত সম্ভব’ অঞ্চলটি পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানিয়েছেন পেন্স।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তুরস্ক সরকারের পদক্ষেপে নিরপরাধ বেসামরিকরা বিপদগ্রস্ত হয়েছে, ঐ অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে এবং আইএসকে (ইসলামিক স্টেট) পরাজিত করার উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুচিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ বলে বর্ণনা করে এটি তুরস্কের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন।

মনুচিনের পাশে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স বলেন, ‘তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত ইস্যুগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি মীমাংসায় তুরস্ক রাজি না হওয়া পর্যন্ত, সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ও আশু যুদ্ধবিরতিতে দেশটি রাজি না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে এবং আরো কঠোর হবে।’

সোমবার প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ফোন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই কথা বলেছেন বলে পেন্স জানান। ‘সিরিয়া আক্রমণ চালানোর জন্য তুরস্ককে কোনো সবুজ সঙ্কেত’ যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিরিয়ায় তুরস্কের ‘অগ্রহণযোগ্য’ আক্রমণের কারণে বন্দি অনেক আইএস যোদ্ধা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে অভিযোগ করেছিল।

এদিকে, সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো তুরস্কে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর জবাবে তুরস্ক বলেছে, তারা ইইউ’র ‘অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের কারণে তাদের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার সম্পর্কগুলো পর্যালোচনা করে দেখবে।