ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯

রোবট দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০০

মোজাহেদুল ইসলাম

 

প্রদর্শনীতে প্রবেশ করতেই রোবটের দেখা মেলে। এমন রোবট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রদর্শনী জুড়ে। এসব দেখতে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সীদের ভিড়। ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’ এর অন্যতম আকর্ষণ দেশে উদ্ভাবিত এসব রোবট। যারা এই রোবট বানিয়েছে তারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। লি, মাইশা, আরমিনা, আলপনা, টিভেট নামের রোবটগুলো দশনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এ ছাড়াও মেলাতে ড্যান্সিং রোবটের নাচ দেখতে অনেকে ভিড় করছেন।

 দেশের তথ্যপ্রযুক্তির বড় এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছে সকাল ১০টায়। চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। কাল প্রদর্শনীর শেষ দিন।

এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। প্রযুক্তিবান্ধব মানুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসেছে প্রদর্শনীতে। এ ছাড়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষরাও ভিড় জমাচ্ছেন ডিজিটাল পণ্য এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দেখতে।

 ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’তে দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্ডাস্ট্রি লিডার সামিট’ শিরোনামে  গোলটেবিল বৈঠক। আইসিটি খাতে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের বিদেশি মুদ্রা আয়ের পরিমাণ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন খাত ধরে তাদের খুঁজে এনে উদ্দীপনা দিতে বিডা ও আইসিটি বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। আবিষ্কারে নারী নেতৃত্ব নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সারসহ এই সেক্টরের নেতারা। এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের শিক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তার সুবিধা ও প্রতিকূলতা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হার্ড শিল্পের চ্যালেঞ্জসমূহ, রোবট শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যত্।

বিকাল থেকে শুরু হয় কনসার্ট। সেখানে অংশ নেয় আর্টসেল এবং নেমেসিস গান পরিবেশন করে। সেখানে তারুণ্যের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনও রয়েছে। এ ছাড়া প্রযুক্তিপণ্য কেনা যাচ্ছে এক্সপো থেকে। প্যাভেলিয়ন এবং স্টলে নানা ধরনের প্রযুক্তি পণ্যের সমাহারে সাজানো হয়েছে।

মেলা ঘুরে এবং আয়োজকদের থেকে জানা যায়, মেলায় দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দিয়ে শীর্ষ নতুন উদ্যোগ খুঁজে পেতে মেলার আগে মাসব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচারমূলক কার্যক্রম চালানো হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ৩০টি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয় মেলায়। আর প্রদর্শনী শেষ হলে তরুণদের শীর্ষ ১০ উদ্যোগকে ১০ লাখ করে মোট ১ কোটি টাকা বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবনী অনুদান (বিআইজি) দেয়া হবে।

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রজেক্ট, এটুআই এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর যৌথ উদ্যোগে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’ আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনীটি। সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনী তবে প্রবেশের জন্য প্রদর্শনীর ওয়েবসাইট https://ddiexpo.com/registration অথবা স্মার্টফোনে আইওএস https://apple.co/2ohSA1v ও অ্যান্ড্রয়েড https://bit.ly/35j2PDg থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রদর্শনীতে ঘুরতে আসা রক্তিম সরকার বলেন, বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুুক্তিতে এত এগিয়ে গেছে এই প্রদর্শনীতে না আসলে জানা হতো না। মেড ইন বাংলাদেশ এবং রোবোটিক্স জোনের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। এত রোবটের দেখা এক ছাদের নিচে পাব বলে আশা করতে পারিনি। প্রতি বছর এমন আয়োজন যুব সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক।

এক্সপোতে সস্ত্রীক ঘুরতে এসেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল হাসান শামিম। তার স্ত্রী জেরিন তাসনিম জানান, মজার ব্যাপার, এই প্রদর্শনীতে পুরুষ রোবটের চেয়ে নারী রোবটের সংখ্যা বেশি ছিল। নারীরা শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, তথ্যপ্রযুক্তিতেও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রদর্শনী তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয়। 

প্রযুক্তি খাতে দেশের সক্ষমতা, দক্ষতা, হার্ডওয়্যার পণ্য উত্পাদনে সম্ভাবনা এবং কর্মপ্রচেষ্টার বাস্তবচিত্র এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও হাই-টেক পার্ক এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নয়ন কাঠামোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া সম্পর্কেও দর্শনার্থীরা সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারছেন। দেশীয় প্রযুক্তির সমাহার দিয়ে এবারের প্রদর্শনীকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। রাখা হয়েছে আটটি জোন। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ জোনে দেশীয় প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানদের এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে। থাকছে ইনোভেশন জোন। এই জোনে নিত্যনতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। আইডিয়া প্রজেক্টের ৩০টি প্রজেক্ট, এটুআই-এর ৩০টি প্রজেক্ট এবং ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে ইনোভেশন জোন। অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামগুলো থেকে নির্বাচিত সেরা ৩০টি উদ্ভাবন এক্সপোতে প্রদর্শিত হবে এবং প্রদর্শনীটি শেষ হওয়ার পরে শীর্ষ ১০ তরুণ উদ্ভাবককে বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবনী অনুদান (বিআইজি) দিয়ে ভূষিত করা হবে। স্টার্টআপ জোনে নতুন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রজেক্ট সম্পর্কে ধারণা পাবেন দর্শনার্থীরা। মেলার অন্যতম আকর্ষণ রোবটিক জোন। এই জোনে শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবটের পদচারণা রয়েছে।

মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্নকে সত্যি করতে এই প্রদর্শনীতে রয়েছে মঙ্গলযাত্রার নিবন্ধন। ২০৪১ সালে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এই জোন দর্শনার্থীদের আশার সঞ্চার করছে। বিসিএস এক্সপো জোনে পাওয়া যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির সব হালনাগাদ পণ্য। স্বনামধন্য প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানরা তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। প্রযুক্তিপণ্য কেনার সুযোগ মিলছে এই জোনে। এক্সপো জোনে থাকছে ১১০ টি প্যাভেলিয়ন এবং স্টল। ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের (আসুস, এইচপি, ডেল, ইন্টেল, স্যামসাং ইত্যাদি) প্রদর্শন করবে প্রযুক্তি পণ্যের সমাহারে সাজানো হয়েছে। রয়েছে বিটুবি এবং মিডিয়া কর্ণার।

গেমারদের জন্য রয়েছে গেমজোন। নানা ধরনের উপহারের ছড়াছড়ি। দেশের তৈরি বিখ্যাত ল্যাম্বারগিনি গাড়ির আদলে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির দেখা পাওয়া যাবে এক্সপোতে। রয়েছে রোবট আঁকাসহ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এক্সপোর দ্বিতীয় দিন দর্শনার্থীদের জন্য দেশের নাম করা ব্যান্ডের অংশগ্রহণে রয়েছে কনসার্ট। তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। মেলার লক্ষ্য হচ্ছে হার্ডওয়্যার পণ্য উত্পাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলা। নতুন উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিকভাবে তাদের পণ্য বাজারজাত করতে সহযোগিতা হিসেবে ইন্ড্রাস্ট্রি এবং উদ্যোক্তাদের সেতুবন্ধন করে দিবে এই এক্সপো।

সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।  ৫ লাখ দর্শনার্থী সরাসরি এবং ১০ লাখ ভিউয়ারস এই প্রদর্শনী অনলাইনে উপভোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।  প্রদর্শনীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট ‘লি’। ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯ এর প্লাটিনাম স্পন্সর ওয়ালটন। গোল্ড স্পন্সর ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স। যৌথভাবে সিলভার স্পন্সর সিম্ফনি এবং ডিবিবিএল। প্রদর্শনীর ফোরজি এলটিই পার্টনার বাংলালায়ন। এডিএন টেলিকম, বাংলাদেশ টেকনো সিটি লিমিটেড, ডাহুয়া, ডেল, এইচপি, হিকভিশন, ইউসিসি এক্সপোর পার্টনার। গেমিং পার্টনার গিগাবাইট। ই-কর্মাস পার্টনার প্রিয়শপ ডটকম।

 

ড্যাফোডিল রোবট

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো, যেখানে অংশগ্রহণ করছে দেশের সুনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল। ড্যাফোডিল ফ্যামিলির বিশেষ আকর্ষণ ড্যাফোডিল রোবট এই মেলায় প্রদর্শন করা হবে। ড্যাফোডিল ফ্যামিলির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, ড্যাফোডিল সফ্টওয়্যারসহ আরো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন সার্ভিস ও সল্যুশন এই মেলায় প্রদর্শন করবে। সম্মেলন কেন্দ্রের নিচতলার মিল্কিওয়েতে ড্যাফোডিল ফ্যামিলি প্যাভিলিয়ন অবস্থান করবে। ড্যাফোডিল ফ্যামিলির পক্ষে জাফর আহমেদ পাটোয়ারী (মহাব্যবস্থাপক), রিয়াজ আহমেদ (হেড অব মার্কেটিং)সহ আরও অনেকে মেলায় প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই মেলা অক্টবরের ১৪ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।