সার্ভিস জেটি ও আধুনিক ক্রেনে পণ্য খালাসের কার্যক্রম শুরু

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১১

পায়রা বন্দর

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রায় নির্মিত প্রথম জেটি এবং অত্যাধুনিক মোবাইল হারবার ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য ওঠানামার কাজ শুরু হয়েছে। পায়রা বন্দরের টিয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীতে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৪ মিটার প্রস্থের সার্ভিস জেটি নির্মাণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ২৯ কোটি টাকা দিয়ে কেনা ৬৪ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক মোবাইল হারবার ক্রেনের মাধ্যমে বন্দরের পণ্য খালাসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রথম দিনে পায়রা বন্দরের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংএ নিয়োজিত বেলজিয়ামভিত্তিক কোম্পানি জান ডি নুলের পণ্য খালাসের মাধ্যমে পায়রা বন্দরের জেটি ও ক্রেন সচল হলো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এস এম ইমতিয়াজ ইসলাম, সুপারিনটেনডেন্ট (লাইটার অ্যান্ড মুরিং), লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান উপপরিচালক নিরাপত্তা, মো. সোহেল মীর উপপরিচালক নিরাপত্তা এবং মো. আসাদুল্লা আশি সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্পটিকে ফ্যাস্ট ট্রাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে ১৯টি কম্পোনেন্টে বিভাজন করা হয়। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট সীমিত পরিসরে পায়রা বন্দরের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ হতে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাশের মধ্য দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন ৩৫টি জাহাজের পণ্য খালাসের মাধ্যমে ১১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

পায়রা বন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট (লাইট অ্যান্ড মুরিং) এস এম ইমতিয়াজ ইসলাম জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অপারেশনাল কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তার ধারাবাহিকতায় পায়রা বন্দরের জেটি এবং ক্রেনের অপারেশন শুরু হয়েছে।

এছাড়াও বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে ৩০ টন ক্যাপাসিটির একটি মোবাইল হাইড্রোলিক ক্রেন এবং ২৫ টন ক্যাপাসিটির ফর্ক লিফট। ক্রেনটির মাধ্যমে হুক, গ্রাব এবং স্পিডার এই তিন ধরনের অপারেশন করা হচ্ছে। এছাড়াও ডিআইএসএফ প্রকল্প, কোল টার্মিনাল প্রকল্প, ফাস্ট টার্মিনাল প্রকল্প, মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং বেলজিয়ামভিত্তিক কোম্পানি জান ডি নুলের মাধ্যমে বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান আছে।