মহাসড়কে আমদানি ও রফতানি পণ্য চুরি হইবার খবর নূতন নহে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ধরনের ঘটনা আজকাল প্রায়শ ঘটিতেছে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের লাগাম টানিয়া ধরিবার তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হইতেছে না। বিষয়টি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির দিক হইতে খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। চট্টগ্রাম বন্দর হইতেছে আমাদের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আমদানি-রফতানির অধিকাংশই এই বন্দর দিয়া পরিচালিত হয়। সেই হিসাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের গুরুত্ব সর্বাধিক। রাজধানী ঢাকা বা অন্য স্থানের কারখানায় তৈরি পণ্য সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে তুলিবার জন্য কাভার্ড ভ্যানে পাঠানো হইয়া থাকে। পণ্য ভালোভাবে প্যাকেট করা থাকে। ভ্যান থাকে সিলগালা করা। তাহার পরও ঘটিতেছে পণ্য চুরির ঘটনা এবং বন্দরে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, কিছু কার্টন হাওয়া হইয়া গিয়াছে। কাহারা-কিভাবে কার্টনগুলি চুরি করিল তাহা অনেক সময় জানাও যায় না।
প্রকৃতপক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই অপরাধকর্মে জড়িত রহিয়াছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাহারা এতটাই বেপরোয়া যে, কোনো স্থানে কাভার্ড ভ্যান কিছু সময়ের জন্য দাঁড়াইতে না দাঁড়াইতেই অকস্মাত্ আসিয়া কার্টন হইতে পণ্য সরাইয়া ফেলে। অনেক সময় এমন কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয় যে, তাহা সহজে ধরা পড়ে না। ধরা পড়ে—বিদেশে গিয়া যখন ক্রেতা নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্য খুঁজিয়া পান না। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রেও আজকাল এমন ঘটনা ঘটিতেছে যাহা উদ্বেগজনক। কেননা ইহাতে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। আমাদের রফতানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সুতরাং বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখিবার কোনো অবকাশ নাই।
মহাসড়কে পণ্য চুরির বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করিয়া দেখা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তদের সহিত গাড়িচালক ও হেলপারদের যোগসাজশ থাকা অসম্ভব নহে। আবার এই ব্যাপারে ঢালাও মন্তব্য করাও সমীচীন হইবে না। শুধু মহাসড়ক নহে, সড়ক, রেল ও নৌপথেও এই ধরনের পণ্য চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিতেছে। এই ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হইবার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হইবে। পণ্য পরিবহনের সহিত জড়িত কেহ ইহার পিছনে থাকিলে ক্ষতিপূরণ আদায় ও তাহার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রধান বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরেও অনেক সময় যাত্রীদের লাগেজ চুরি বা লাগেজ কাটিয়া মূল্যবান মালামাল চুরি হইবার ঘটনা ঘটে যাহা দুঃখজনক। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখায় এই ব্যাপারে অভিযোগ করিয়াও অনেক সময় প্রতিকার মিলে না। এইভাবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। ইহাতে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই নহে, আমাদের পর্যটনশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ এবং বন্দরের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা একান্ত কাম্য। মাঝেমধ্যে তাহাদের সাঁড়াশি অভিযান উদভূত পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করিতে পারে।
