পেস বোলিং নিয়ে চিন্তিত নান্নু

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

সামনে ভারত সফর। এই সফরে ভারত যে বাংলাদেশকে স্পিন-সহায়ক কন্ডিশনে খেলতে দেবে, এমনটা আশা করা খুব কঠিন হবে। বরং ইদানীং তাদের ফাস্ট বোলাররা যে পরিমাণে উন্নতি করেছে, তাতে তারা ফাস্ট বোলিং-সহায়ক উইকেটেই বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাবে—এমনটা অনুমান করা যায়। আর এখানেই এই সফরের জন্য দল ঘোষণার আগে শঙ্কায় আছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা টেস্ট ক্রিকেটে কখনোই সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা সব সময়ই থাকে। নান্নু বলছিলেন, এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে ফাস্ট বোলারদের ইনজুরি নিয়ে চিন্তা। অনেক ফাস্ট বোলার ইনজুরিতে এমন খবর জানিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে আমরা পেস বোলারদের নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কায় আছি। কারণ এখন এমন একটি অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে অনেক খেলোয়াড় ইনজুরিতে। যদি ১ থেকে ১০ জনের একটি তালিকা করি, তাহলে দেখা যাবে ৫ জন খেলোয়াড়ই ইনজুরিতে পড়ে আছে। এইচপিতে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে, তারাও ইনজুরিতে পড়েছে। এটি আমাকে যথেষ্ট ভোগাচ্ছে।’

ফাস্ট বোলারদের শুধু একটা ইনিংস ভালো করার মতো ফিটনেস থাকলে চলবে না। তিনি বলছিলেন, দুই ইনিংসেই ভালো বোলিং করার ক্ষমতা না থাকলে সেই বোলারকে বিবেচনা করা কঠিন। সেই প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক বলছিলেন, ‘ফিটনেস ও পারফরম্যান্স অবশ্যই গণ্য করা হবে। কারণ এ ধরনের ফিটনেস জরুরি ব্যাক টু ব্যাক টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য এবং দুই ইনিংসে ভালো বল করার ফিটনেসটি দেখতে হবে। আপনি এক ইনিংসে বল করে দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে পারছেন না ঐ স্ট্যান্ডার্ডে সেটি কিন্তু হবে না। আপনার ফিটনেসের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এ জন্য যে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখতে হবে দুই ইনিংস মিলিয়ে কতটুকু বল করেছেন। যদি পারফর্ম করে তাহলে অবশ্যই ওদের নেওয়া হবে।’

ফাস্ট বোলারদের নিয়ে এই চিন্তার বিপরীতে নান্নুকে অবশ্য আশাবাদী করছেন তরুণ ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে দুই তরুণ ওপেনার সাইফ হাসান ও নাঈম শেখ খুব ভালো ফর্মে আছেন। এই দুজনের খেলা শ্রীলঙ্কায় নিজে দেখে এসেছেন নান্নু। সেই দেখা থেকে বলছিলেন, ‘সাইফ হাসান কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। ওর বোলিং নিয়ে আমরা এত চিন্তা করিনি কখনো। সে অসাধারণ বোলিংও করেছে। ভালো জায়গায় বোলিং করেছে। নাঈম শেখও যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করেছে। প্রথম ম্যাচে ভালো না করলেও শেষ ম্যাচগুলোতে ভালো করেছে। এখানে কিছু বিষয় আছে, ক্রিকেটারদের তৈরি করে রাখা। এটা বিরাট ব্যাপার। এখানে ক্রিকেটাররা ভালো সুযোগ পাচ্ছে। ক্রিকেটারদের যে আমরা এইচপিতে তৈরি করেছি, সেটার ফলই এই পারফরম্যান্স। সে হিসেবে একটা প্লেয়ারকে উন্নতির মধ্যে রাখা, দলের জন্য ব্যাকআপ হিসেবে তৈরি করে রাখা। এইচপিতে কিন্তু ওদের নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আগামীতে জাতীয় দলের জন্যে ওদের তৈরি করে রাখছি।’