অনশনসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪২

খুলনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ধর্মঘট অব্যাহত

খুলনা অফিস

খুলনা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে চালকরা গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করেছে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ের জন্য অনশনসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন রিকশাচালকরা। অপরদিকে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া নগরীর ৩৮৭টি রিকশার ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুত্সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেসিসি কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবারও নগরীর বিভিন্ন স্থানে চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুত্সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

এদিকে, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ থাকায় ইজিবাইক চালকরা বিভিন্ন রুটে পাঁচ থেকে ১০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। আবার রিকশাচালকরা বলেছেন, তারা ব্যাটারি ছাড়া গাড়ি চালাতে চাইলেও মালিকরা গ্যারেজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে রিকশা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে যে রুটে পাঁচ টাকা ভাড়া ছিল। সেখানে এখন তা আট থেকে ১০ টাকা নিচ্ছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলেও স্বস্তি ছিল। এখনতো আরেক বিপদ সৃষ্টি হয়েছে।’

দৌলতপুর রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জব্বার ফকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘মালিকরা সব গ্যারেজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই আমাদের কিছু করার নেই। রিকশাও নেই, কাজও নেই।’ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি দিয়ে লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ বুধবার সকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন, ১৭ অক্টোবর নগর ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট এবং ১৮ অক্টোবর হাদিস পার্কে অনশন। পাশাপাশি   অনির্দিষ্টকালের জন্য রিকশা ধর্মঘটও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হানিফ সরদার।

উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি মো. ফোরকান, ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক লীগের সভাপতি সেলিম খাঁ ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বন্দ, ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি আসলাম হোসেন প্রমুখ।