সম্রাট ১০ দিনের, আরমান পাঁচ দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৬

অস্ত্র ও মাদক মামলায় গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সম্রাটকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার দেখানোপূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে সম্রাটের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। এছাড়া সম্রাটের ‘ক্যাসিনো গুরু’ হিসেবে পরিচিত এনামুল হক আরমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আরমান মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি ও সম্রাটের বন্ধু।

সম্রাটকে আদালতে আনার খবরে সকাল থেকেই পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় ভিড় করে সম্রাটের কর্মী ও সমর্থকরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রায়সাহেব বাজার থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতের গেট পর্যন্ত অবস্থান নেয় যুবলীগের সমর্থকরা। তারা সম্রাটের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

এদিকে, আদালতে আসার পর এজলাসের এক কোণে সহযোগী এনামুল হক আরমানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন সম্রাট। সেখানে তাকে অনেকটা অসহায় মনে হচ্ছিল। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট আদালতের ভেতরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ঘামছিলেন দরদর করে। পাশ থেকে একজন তাকে টিস্যু পেপার এগিয়ে দেন। শুনানির মাঝেই একবার নিজের আইনজীবী এবং বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তাকে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর রাতে রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানোর পাশাপাশি ১০ দিন করে ২০ দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আরমানকেও মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো ও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গত ৬ অক্টোবর ভোরে গ্রেফতার করা হয়। আরমান মদ্যপ অবস্থায় থাকায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। আর সম্রাটকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ঐ দিনই সম্রাটের কার্যালয় রাজধানীর কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায় র্যাব। উদ্ধার করা হয় ১ হাজার পিস ইয়াবা ও সংরক্ষণের ২ হাজার ৫০০ জিপার প্যাকেট।

সম্রাটের কক্ষে একটি লাগেজ থেকে ১৯ বোতল মদ, একটি বিদেশি পিস্তল এবং পাঁচ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন।