সুন্দরবনে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ চার জন নিহত হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিবিনিময়ে যুবক এবং হবিগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত নিহত এবং পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। এ সময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। ইত্তেফাক প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
খুলনা :সুন্দরবনে র্যাব-৬-এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু আমিনুর বাহিনীর প্রধান আমিনুর, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড রফিকসহ চার জন নিহত এবং র্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কয়রা উপজেলার সুন্দরবনের কয়রাখালী নামক স্থানে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহত অপর দুই জলদস্যু হলেন আক্তার হোসেন ও মনীষ সাহা। এ সময় র্যাবের দুই সদস্য সৌরভ ও নাহিদ আহত হন। র্যাব ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি তিনটি একনলা বন্দুক, ২৫ রাউন্ড গুলি ও ৯টি গুলির খোসা উদ্ধার এবং ডাকাতদের ব্যবহূত নৌকা জব্দ করে। র্যাব-৬-এর ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, জলদস্যু আমিনুর বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শিবসা নদীর কয়রাখালী নামক স্থানে একটি নৌকায় অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে র্যাবের একটি টিম সেখানে অভিযানে যায়। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা সুন্দরবনের মধ্যে ঢুকে সশস্ত্র অবস্থান নেয়। র্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের গুলিবিনিময়কালে চার জলদস্যু গুলিবিদ্ধ ও র্যাবের দুই সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয়রা নিহত জলদস্যু আমিনুর বাহিনী প্রধান আমিনুর রহমান, রফিক, আক্তার হোসেন ও মণীষ সাহার পরিচয় শনাক্ত করেন।
হবিগঞ্জ :হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। নিহত ডাকাত কুদরত আলী সদর উপজেলার দড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলীর ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার সুরাবই গ্রামের একটি বাঁশবাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। তাদের সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ডাকাত কুদরত আলীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৩টি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর :লক্ষ্মীপুরে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে গুলিবিনিময়কালে ইলিয়াস নামে এক যুবক নিহত হন। গতকাল ভোরে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইলিয়াস উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরা গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। তবে গোলাগুলিতে জড়িত সন্ত্রাসী বাহিনীর নাম জানাতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রাতে বকুলতলা এলাকায় গুলির শব্দ শুনে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ঐ যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, ২ রাউন্ড গুলি ও ৫টি গুলির খোসা এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
