বাড়ছে শব্দ ও বায়ু দূষণ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৯

আমাদের জীবনের সঙ্গে দূষণ শব্দটি এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিনিয়ত আমরা শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণের শিকার হচ্ছি। যা আমাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পথে অন্তরায়। দেশের বর্ধিত জনসংখ্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে দূষণের হার। এর জন্য আমাদের অসচেতনতাই মূলত দায়ী। শীতকাল এলে বহু গুণে  বেড়ে যায় শব্দ ও বায়ু দূষণের হার।

প্রথমেই আসি বায়ু দূষণের কথায়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইপিএর ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী—১৮০টি দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। খবরটি শুনলেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। কত দ্রুত আমরা খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি তা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে। কারণ ২০১৬ সালেও বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে ছিলাম ১২৫তম। তবু কিছুটা স্বস্তির বিষয় এই যে, এই প্রতিবেদনটি মূলত ঢাকা শহরের বায়ু দূষণের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আর আমাদের রাজধানী থেকে বাইরের এলাকাগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো। শীতকালে প্রকৃতিতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ধুলাবালির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি নানা সংস্কারমূলক ও নির্মাণ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় বায়ু দূষণ ঘটে। বর্তমানে বায়ু দূষণের কারণে শিশু আর বয়স্করা হাঁপানি, মাথাধরা, শ্বাসরোগ, ফুসফুসে ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ু দূষণ শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায়। তাই বায়ু দূষণের মাত্রা কীভাবে কমিয়ে আনতে পারি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি একদিন আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। নির্মাণ কাজের সময় বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যেন ধুলা ময়লা চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে  না পড়ে। নালা বা ড্রেন পরিষ্কার করার পর ময়লা আবর্জনা পাশে স্তূপ করে রাখা যাবে না। নির্মাণ এলাকার আশেপাশে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। রাস্তাঘাটে অতিরিক্ত ধুলাবালির হাত থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

শীতকালে আর একটি দূষণ যেটি মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যায় তা হলো শব্দদূষণ। এসময় নানা বিবাহ, পার্টি, বনভোজন আয়োজন করা হয়। সেখানে উচ্চৈশব্দে মাইক বাজানো হয় যা অনেক সময় আমাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটে তেমনি অসুস্থ ব্যক্তিদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অনেক সময় অনুষ্ঠান আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেও এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মেলে না। তাই এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ জরুরি। আবাসিক এলাকায়, হাসপাতাল বা  বিভিন্ন স্কুল- কলেজের আশপাশে উচ্চৈশব্দে গাড়ির হর্ন বা অন্য কোনো উপায়ে শব্দদূষণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এ ব্যাপারে সকলকে জানতে হবে এবং তা মেনে চলার অভ্যাস  করতে হবে। অন্যথায় শব্দদূষণ ক্রমাগত বেড়েই চলবে।

এই পরিবেশটা আমাদের। তাই একে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলাও আমাদের দায়িত্ব। আমাদের নিজেদের কোনো ভুলের কারণে এই পরিবেশ যেন দূষণের শিকার না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। প্রত্যেককে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান

ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়