রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে খুন

প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা লুটপাট, ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত রেজাউল করিম আবুর বাবা মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ থাকায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। 

গ্রেফতারকৃত চার জন হলেন, দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি গ্রামের হানিফ মোল্লার ছেলে হাফিজুল ইসলাম (৩৮), মৃত মৈজদ্দিন শেখের ছেলে সামাদ শেখ (৫০), কালাম শেখের ছেলে মাসুদ রানা (২৪), আয়নাল মণ্ডলের ছেলে আরিফ মণ্ডল (৩০)। গত সোমবারের সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় উত্তজনা বিরাজ করছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক। কেউ কারো সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছেন না। হাসপাতালে আবুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের গ্রুপের বিক্ষুব্ধ লোকজন দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানী গ্রামের প্রতিপক্ষ সামাদ শেখ, সাইফুল ইসলাম, আবদুস ছালাম ও আবুল কালামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় লুটপাট করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সামাদ শেখের স্ত্রী কমেলা বেগম (৫৫) জানান, সোমবার রাতে বেশ কিছু লোকজন এসে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিভি, ফ্রিজসহ ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ওয়ারড্রফের ড্রয়ার ভেঙে ৫০ হাজার টাকা ও ৩ জোড়া স্বর্ণের রুলি, স্বর্ণের হার, ৩টি চেইনসহ অন্যান্য স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো ধরনের মারামারির মধ্যে ছিল না। শুধু কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আতর আলী সরদারের পক্ষে কাজ করেছে। সেই থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল।

সামাদ শেখের বাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, বরং ওরা আমার মেয়ের দেবর আবুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রহমত সরদার (৩৭) ও  আলম মোল্লা (৩৮) এবং গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোল্লা আলেমসহ (৪০) চার জন গুরুত্বর আহত অবস্থায় চিকিত্সাধীন রয়েছে।