বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৮

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৪৪

চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেই পড়ছে। মন্দার পর বর্তমান সময়ে বিশ্ব সবচেয়ে ধীর গতিতে এগুচ্ছে। বাণিজ্যবিরোধ বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বিশ্বব্যাপী নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, চলতি বছর (২০১৯) শেষে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩ শতাংশ। ২০০৯ সালের পর এটাই হবে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। গতকাল প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এ এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে নানা আশঙ্কা সত্ত্বেও উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছে আইএমএফ। পূর্বাভাস অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আগামী বছর এই হার কমে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের পূর্ভাবাস প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে যদিও সরকার বাজেটে আশা করছে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। আইএমএফের প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উদীয়মান এবং উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের। পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালের ৭ দশমিক ১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, ভিয়েতনাম সাড়ে ৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার পেছনে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে আশা করছে আইএমএফ।

এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে কমিয়ে অক্টোবরের পূর্বাভাস দেওয়া হলো। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার শুরুতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আইএমএফ বলছে, ২০০৭-২০০৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বমন্দার পর এটি সবচেয়ে কম অগ্রগিত। ২০১৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এবার ২০১৯ সালে ৩ শতাংশে নেমে আসবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। সংস্থাটি বলছে, বাণিজ্য শুল্ক এবং ভূ-রাজনীতির কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে ২০২০ সাল নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করছে আইএমএফ। ৩.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ২০২০ সালে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত বিশ্বের প্রবৃদ্ধি এ বছর ১ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে যা ২০২০ সাল নাগাদ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গত বছরের তুলনায় তুরস্ক, আর্জেন্টিনা এবং ইরানের অর্থনীতির গতি কমেছে। তুলনামূলক ভালো করেছে ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভারত, রাশিয়া ও সৌদি আরব। উচ্চ শুল্ক এবং বাণিজ্যনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে বাধাগ্রস্ত করছে। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে নিজ দেশে নানা আর্থিক প্রণোদানমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।