অমিত শাহের মানবাধিকারের সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩৬

সম্প্রতি ভারতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিষ্ঠা দিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতের পটভূমিতে মানবাধিকারের যে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে। তিনি বলেন, হেফাজতে মৃত্যু বা পুলিশি নির্যাতন নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা যতো হইচই করেন, আসলে তার চেয়েও বেশি করা উচিত নকশাল বা জঙ্গিদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব মানবাধিকারের যে মাপকাঠি স্থির করেছে তা ভারতের জন্য উপযুক্ত নয়। তার মতে, নিজেদের সমস্যাগুলো বুঝে নিয়ে মানবাধিকারকে নতুন দৃষ্টিকোণ ও নতুন মাত্রা দিয়ে দেখতে হবে। সব মানুষের ওপর ছাদ দেওয়া, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ বা রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, মেয়েদের শৌচাগারসহ এসব নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার। মানবাধিকার কর্মীরা এসবের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে বলছেন, এর মানে এই নয় যে, ভারত অন্যসব অধিকারগুলো এড়িয়ে যাবে।

ভারতের সুপরিচিত মানবাধিকার আইনজীবী নন্দিতা হাকসার বলেন, অমিত শাহ যা ই বলুন ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। তিনি কি সেখান থেকেও সরে আসতে চান? সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৩ এ বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মানবাধিকার যেভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে সেটাও কি তিনি মানতে চান না? অ্যাক্টিভিস্ট অমিত ভট্টাচার্যর মতে, অমিত শাহের যুক্তিতে গোড়ায় গলদ আছে। তিনি বলেন, ‘ভিক্টিম কাকে বলব? তার আগে ভাবুন, অস্ত্র রাষ্ট্রের হাতে থাকে। রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নেই। এসব অস্ত্রই রাষ্ট্র ব্যবহার করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। এর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধেই নির্বিচারে এসব অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়। এমনকি মেরে ফেলাও কোনো ব্যাপার নয়। রাষ্ট্রের হাতে সাজানো ক্রসফায়ার প্রতিনিয়ত হচ্ছে। কিন্তু একটা সময় মানুষও যখন পাল্টা রুখে দাঁড়ায়, আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেয় তখনই এই প্রশ্নগুলো ওঠে।