ফাখরুল আরেফীন খান। চলচ্চিত্র পরিচালক। ‘ভুবন মাঝি’ খ্যাত এই নির্মাতা সম্প্রতি শেষ করেছেন তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘গণ্ডি’র দৃশ্যধারণ। এই চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অজেয় চৌধুরী
‘গণ্ডি’ ছবির দৃশ্যধারণ কি শেষ?
হ্যাঁ। সবার ভালোবাসায় কিছুদিন আগেই ছবিটির দৃশ্যধারণ শেষ করেছি আমরা। ছবিটির প্রথম লটের কাজ করেছিলাম ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে। এরপর চলতি বছরের মার্চে কক্সবাজার ও সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ছবিটির দৃশ্যধারণ শেষ করেছি। এখন ছবিটির সম্পাদনার কাজ চলছে।
এই ছবির গল্প ষাটোর্ধ্ব দুজন মানুষের বন্ধুত্ব নিয়ে। কেন এমন গল্প বেছে নিলেন?
আমরা ‘গড়াই ফ্লিম’ থেকে এখনো পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছি, তার প্রতিটিই ছিল গল্প বেজ। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, একটি ছবির প্রাণ গল্প। আবার যে গল্পগুলোর মধ্যে ইউনিভার্সেল মেসেজ থাকে, তা পৃথিবীর সব দেশের সব ভাষার মানুষেরা বুঝতে পারেন। একটু উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে, আমাদের আগের ছবি ‘ভুবন মাঝি’-তে চেষ্টা করেছিলাম এমন একজন মানুষের গল্প বলতে। যে মানুষটি যুদ্ধ পছন্দ করে না। কিন্তু একটা সময় মানবিক কারণে তাকে যুদ্ধে যেতে হয়। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় জায়গা হলো মানবিকতা। আর এবারে বেছে নিয়েছি ‘বন্ধুুত্ব’। আমরা মনে করি, বন্ধুত্বের কোনো গণ্ডি নেই। মানুষের সঙ্গে মানুষের যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, তাকে আমরা নানা রকমের বৃত্ত বা গণ্ডির মধ্যে বেঁধে ফেলি, যা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যে পড়ে না। আমাদের দেশে প্রচলিত একটা ধারণা আছে, নির্দিষ্ট সময়ের পর বিপরীত লিঙ্গের কোনো মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারে না বা হলেও তা খুব বেশি প্রগাঢ় হবে না। এই ধারণা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত না। এই ছবির মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি, বন্ধুত্ব যেকোনো সময় যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গেই হতে পারে।
এই ছবিতে অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের সুবর্ণা মুস্তাফা। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
এক কথায় বললে, দারুণ! সব্যসাচী চক্রবর্তী। যাকে নিয়ে এরই মধ্যে বাংলা সিনেমার অনেক খ্যাতনামা পরিচালকেরা কাজ করেছেন। বাংলা সিনেমায় তিনি এমন অনেক কাজ করেছেন, যা অতুলনীয়। একই কথা সুবর্ণা মুস্তাফার বেলাতেও। তাদের দুজনের সঙ্গে কাজ আমার জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল। যদিও কাজের শুরুতে কিছুটা স্নায়ুচাপে ছিলাম। দুজনের সঙ্গেই যখন ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হতে যাই। কাজ নিয়ে গল্প করতে যাই। তখনই আমার স্নায়ুচাপ শুরু হয়ে যায়। দুজনই খুব নিরহঙ্কারী মানুষ। দুজনেই কাজের ব্যাপারে খুবই প্রফেশনাল। এই দুজনের সঙ্গে আমার কাজ নিয়ে দারুণ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে।
‘গণ্ডি’ ছবিটি কেন দর্শক দেখবে বলে আপনি মনে করেন?
এই ছবি দর্শক দেখবেন গল্পের কারণেই। আমরা ছবিতে একটি গল্প দেখাতে চেয়েছি। যে গল্প নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তা করি না। ঠিক তেমন একটা গল্প। দেখুন, এই সময়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা ‘অ্যাভাটার’ বা ‘অ্যাভেঞ্জারস’-এর মতো চলচ্চিত্র দেখে। কারণ এই ধরনের গল্প তারা চিন্তাও করে না। আমরা তো আর অ্যাভেঞ্জারস বানাতে পারব না। আমাদের সেই প্রযুক্তি বা শিক্ষাও নেই। কিন্তু আমরা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সুন্দর একটা গল্প বলতে পারব বলে বিশ্বাস করি। যে গল্প মানুষকে নাড়া দেবে, আনন্দ দেবে।
পরিচালনার পাশাপাশি ‘গণ্ডি’ ছবিটি প্রযোজনাও করেছেন। আপনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘গড়াই ফিল্মস’ নিয়ে বলুন।
‘গড়াই ফিল্মস’ সবসময় একটা আদর্শে বিশ্বাস করে। আমরা শুধু বিনোদননের জন্য সিনেমা বানাতে চাই না। আমরা সিনেমা বানাতে চাই মানুষের জীবনের পরিবর্তনের জন্য। আমরা গড়াই থেকে সেইসব গল্পই বেছে নেওয়ার চেষ্টা করি, যেগুলো মানুষকে তার সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে কিছুটা হলেও চিন্তা করতে শেখায়। যা আমাদের আগের কাজগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন। আমাদের ‘আলবদর’ ও ‘দ্য স্পিচ’ ছিল মুক্তিযুদ্ধের ওপরে। বাউলদের সামাজিক অধিকার নিয়ে আমরা নির্মাণ করেছি ‘হকের ঘর’। এরপর নির্মাণ করেছি ‘ভুবন মাঝি’। এখন ‘গণ্ডি’।
আপনার আগামী পরিকল্পনা কী?
চলচ্চিত্র নিয়ে আমার দু ধরনের পরিকল্পনা আছে। একটি হলো আমার নিজের চলচ্চিত্র। আর যেহেতু আমি একজন প্রযোজকও তাই আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো ভালো কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করতে চাই। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গল্প নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।
‘গণ্ডি’ ছবিটি মুক্তি পাবে কবে?
আমাদের ইচ্ছা আছে জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার।
